সিলেটে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী 

সিলেট প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
সিলেটে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী 

এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন পরিবেশে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আজ সকালে সিলেটে পৌঁছেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম সরকারি সফর। সফরের শুরুতেই তিনি পুণ্যভূমি সিলেটের আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ তাঁদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুপাশে ভিড় জমায়।

আজ সকাল ১০:০৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি সরাসরি দরগাহ গেট এলাকায় অবস্থিত হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারে যান।

মাজার প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। সেখানে তিনি দেশের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রের সুসংহত ভবিষ্যতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। এ সময় তাঁর সাথে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজ সকাল থেকেই সিলেটে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছিল, কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি। বিমানবন্দর থেকে মাজার অভিমুখে যাত্রাপথে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

তারেক রহমান তাঁর গাড়ির জানালার কাঁচ নামিয়ে হাত নেড়ে উৎসুক জনতার অভিবাদনের উত্তর দেন। দীর্ঘ সময় পর নিজ এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে এক অভাবনীয় উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

মাজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ততম। তাঁর সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সিলেটের দীর্ঘদিনের সমস্যা।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর জলবদ্ধতা দূরীকরণে একটি বিশেষ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সুরমা নদীর তীরবর্তী ঐতিহাসিক চাঁদনী ঘাটে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। 

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি সেখানে আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশে ভাষণ দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর ভাষণে সিলেটের উন্নয়ন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা থাকবে।

সিলেট সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘বাইশা নদী’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। এই প্রকল্পটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জলাবদ্ধতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক নতুন মাইলফলক। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান শিশু ও কিশোর খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি জেলা পর্যায় থেকে দক্ষ অ্যাথলেট তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেটের কয়েক হাজার শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করবে।

সফরের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের শিল্পকলা একাডেমিতে একটি দলীয় সভায় যোগ দেবেন। উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি এই সিলেট থেকেই তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছিলেন। আজকের এই সভায় তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার নির্দেশ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকল কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন।

তারেক রহমানের এই সিলেট সফর কেবল একটি সরকারি সফর নয়, বরং এটি তাঁর সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তার এক বিশাল বহিঃপ্রকাশ। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট থেকে শুরু হওয়া সেই প্রচারণার ধারাবাহিকতায় আজকের এই সফরকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। 

সিলেটের মানুষের প্রতি তাঁর এই বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন, আগামী দিনগুলোতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনারই একটি ক্ষুদ্র প্রতিফলন।

সিলেটের সাধারণ মানুষের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাজপথের লড়াকু সৈনিক থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার এক সফল যাত্রার স্বীকৃতি।

এএন