গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে নৃশংসভাবে হত্যার তিন দিন পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় ফোরকানকে প্রধান আসামি করে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- ফোরকানের স্ত্রী শারমিন আক্তার, তাদের তিন মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুল মিয়া (২২)।
মরদেহ উদ্ধারের সময় শারমিনের পরনে নতুন শাড়ি ও শরীরে উজ্জ্বল অলঙ্কার দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মরদেহগুলোর এমন পরিপাটি অবস্থা রহস্যজনক। নিহত শারমিনের ভাই আরোজ আলী জানান, ঘটনার দিন বিকেলে ফোরকান সপরিবারে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন, তখন শারমিনের পরনে ওই পোশাক ও অলঙ্কার ছিল।
নিহত শারমিনের ফুফু ইভা আক্তারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান তার ভাইকে ফোন করে বলেছিলেন, “সব শেষ করে দিয়েছি, সবাইকে মেরে ফেলেছি। আমাকে আর পাবি না।” স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে বিছানায় পাঁচজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
ফরেনসিক চিকিৎসক মাজহারুল হক জানান, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছোট শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। বিষক্রিয়া ছিল কি না তা নিশ্চিত হতে পাকস্থলীর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
কাপাসিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস মেলেনি। একজন ব্যক্তি একা পাঁচজনকে হত্যা করেছে নাকি এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন