ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ইসি অত্যন্ত নিরপেক্ষ ছিল, তাদের উন্নতি দেখেছি: আনফ্রেল

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ইসি অত্যন্ত নিরপেক্ষ ছিল, তাদের উন্নতি দেখেছি: আনফ্রেল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশ নিতে দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ না করলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অত্যন্ত নিরপেক্ষ ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস’ (আনফ্রেল)। সংস্থাটি মনে করে, ইসির কাজের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে এই নির্বাচন সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ছিল না এবং এখনও বেশ কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আনফ্রেলের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে আনফ্রেলের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান রোহানা হেত্তিয়ারাচ্চি, নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোজালেস, নির্বাচন বিশ্লেষক কার্লো আফ্রিকা এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর থারিন্দু আভেয়রাথনা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদও সেখানে অংশ নেন।

বিগত নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিজা রোজালেস জানান, কোনো ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে সুযোগ দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখেননি। তবে সামগ্রিক মূল্যায়নে দেখা গেছে নির্বাচন কমিশন খুবই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে এবং তাদের দক্ষতা বেড়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই চ্যালেঞ্জের বিষয়টি মাথায় রেখে ইসিকে এটি সরাসরি সমাধানের আহ্বান জানান।

এই বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, সর্বোচ্চ আদালতে দুটি মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করবেন না, তবে কমিশন কারও প্রতি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা দয়া দেখায়নি।

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনীতে রোহানা হেত্তিয়ারাচ্চি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দীর্ঘ সময় পর ইসি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর স্পষ্ট হয়েছে, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনসহ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং কমিশনের ওপর তাঁদের যথেষ্ট আস্থা আছে।

আনফ্রেলের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, নির্বাচনের একটি স্থায়ী সংকট হচ্ছে জবাবদিহিতা। নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে মানুষের আস্থা সীমিত ছিল, বিশেষ করে অর্থের প্রভাব ও অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী অর্থায়নের বিষয়টি এখানে ফুটে উঠেছে। প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং পোস্টার সংক্রান্ত বিধিমালার প্রয়োগেও অসামঞ্জস্য ছিল, যা কমিশনের নিজস্ব বিধি কার্যকর করার ক্ষমতা নিয়ে জনমনে আস্থা কিছুটা হ্রাস করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনের দিনে অর্থের প্রভাবসংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের দেওয়া ভোটার স্লিপ কিছু ভোটার ভোটকক্ষে প্রবেশের সময় পোলিং এজেন্টদের সামনে প্রদর্শন করছিলেন, যা ভোট কেনাবেচার যাচাইকরণ পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আনফ্রেল। সেই সঙ্গে নির্বাচনপূর্ব ও প্রচারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে সূক্ষ্ম চাপ প্রয়োগ ও পেশিশক্তির ব্যবহার দেখা গেছে।

ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়া সাধারণত সুশৃঙ্খল হলেও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্বচ্ছতামূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কোনো কোনো স্থানে ব্যালট বাক্স খোলার সময় মূল যাচাইকরণ পদক্ষেপগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা না হলেও, তা ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করেছে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র ভোটের অল্প কিছুদিন আগে দেওয়ায় ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে গণভোটের ফলাফল জুলাই সনদের অধীনে সংস্কার বাস্তবায়নের বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতির প্রত্যাশাকে জোরদার করেছে। আনফ্রেলের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচন দিনের আস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি তখনই টেকসই হবে, যখন নির্বাচন-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়মভিত্তিক জবাবদিহিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

জেএইচআর