স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার 

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন চায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পোস্টারবিহীন হোক এবং সে লক্ষ্যেই বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালায় সংশোধনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান বাতিল এবং ইভিএম ব্যবহারের নিয়ম তুলে দেওয়া। নির্বাচন পুরোপুরি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, ফলে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।

বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, সেটিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্য সব স্তরের নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে ঠিক কতটা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী ভোট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে না। একই সঙ্গে পলাতক আসামিরা প্রার্থী হতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ চলছে। ঈদের পর সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে এবং জুনের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার আশা করছে কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু হতে পারে। কমিশন অক্টোবর থেকেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে চায়।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন এই জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার।

প্রথমত, সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান। তার মতে, সরকার কী চায় এবং কীভাবে আচরণ করে, সেটি নির্বাচনের পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলে।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সহিংসতা বা সংঘর্ষ কাম্য নয়।

তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় অবস্থান। তার ভাষায়, কমিশনের নিজস্ব শক্তি সীমিত হলেও নীতিগত কঠোরতা থাকতে হবে।

চতুর্থত, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সততা ও দায়িত্ববোধ। তিনি বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং স্টাফরা সৎভাবে দায়িত্ব পালন করলে অনিয়ম অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব নয়। শুধু আইন প্রয়োগ করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না; রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বাস্তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকে। ফলে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সংযম না থাকলে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন ঘিরে মারামারি, ভাঙচুর, ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হবে।

তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় যদি সারাদিন ফাউল করে, রেফারি কয়টা ফাউল ধরবে?’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বড় রাজনৈতিক জোটগুলো আচরণবিধি মেনে চলায় ভোটের দিন বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কেন্দ্র দখলের ঘটনা খুব কম ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং স্টাফরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করার ক্ষমতাও কমিশনের হাতে রয়েছে।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

সূত্র: বাসস

এম জি