১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের জবাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ১২:১৭ এএম
১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগের জবাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে অর্থের কথা বলেছেন, সেটি মূলত উপজেলার উন্নয়ন বাজেট এবং সেই টাকা কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া একটি অভিযোগ তোলেন। 

তিনি দাবি করেন, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, মোস্তাক মিয়া বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাসনাত আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “জেলা পরিষদের প্রশাসক মূলত উপজেলার বাজেট বরাদ্দের কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার বাজেটের টাকা তো আমাকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া হয়নি। এই বাজেট কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না, দেওয়া হয় সরাসরি উপজেলাকে।”

দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন কোন খাতে এবং কী কী কাজের জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “উপজেলা কর্তৃপক্ষ সেই টাকা কোন খাতে কত খরচ করেছে, তারও স্পষ্ট হিসাব রয়েছে। তারা চাইলে সেটি প্রকাশ্যে নিয়ে আসুক।”

উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত আছেন জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি আমার এলাকার মানুষের কল্যাণের জন্য কোথাও যদি কিছু ভিক্ষাও চাইতে হয়, তাতেও আমার কোনো আপত্তি নেই। কারণ, এই প্রাপ্তি আমার নিজের জন্য নয়, এটি সাধারণ মানুষের জন্য।”

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও স্পষ্ট করেন, এই বরাদ্দটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে দেবীদ্বার উপজেলাকে মূলত ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) প্রকল্পের আওতায়। এর সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি এমনভাবে বক্তব্য দিয়েছেন যেন মনে হচ্ছে এই টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ এই অর্থ দেবীদ্বারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি এটি রাজস্ব খাত থেকে নেওয়ার দাবি করলেও, এটি মূলত এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ, রাজস্ব খাতের নয়।

জেএইচআর