বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে বড় ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা (বেড) খালি রাখতে হবে এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার ফিতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, প্যাথলজি ল্যাব, বেসরকারি হাসপাতাল এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই আলোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সভায় দেশের ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সংকটের নানা দিক উঠে আসে। সংকট সমাধানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে হবে। রোগীরা শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করবেন।
এর পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ ফি (ভিজিট) সম্পূর্ণ মওকুফ করার জোরালো নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন ওষুধের অপপ্রয়োগ বন্ধে সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।
আলোচনায় ডেঙ্গুর টিকা বা ভ্যাকসিন প্রসঙ্গটি এলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাকসিন আন্তর্জাতিকভাবে সার্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করেনি। যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব থাকায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর টিকাদান কার্যক্রম চালু করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
চিকিৎসার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে জোরদারভাবে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কারও বাড়ির ছাদ, আঙিনা বা আশপাশ অপরিচ্ছন্ন থাকলে এবং সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন