রাজধানীতে প্রবীণ নারীর মৃত্যু নিয়ে ‘বুয়েট শিক্ষক’ ছেলে যা বললেন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ১১:২২ এএম
রাজধানীতে প্রবীণ নারীর মৃত্যু নিয়ে ‘বুয়েট শিক্ষক’ ছেলে যা বললেন
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে নানা ধরনের অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবারের সদস্যরা জানান, এই অপপ্রচার তাঁদের মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রয়াত নারীর ছোট ছেলে এবং বুয়েটের অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান জানান, ঈদের দিন তিনি সপরিবারে মায়ের খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন। সময় দেখতে মায়ের যেন কষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি সেদিন একটি দেয়ালঘড়িও উপহার দিয়েছিলেন।

অধ্যাপক রহমান বলেন, মায়ের আকস্মিক চলে যাওয়ার ধাক্কা সামলানোর আগেই ইন্টারনেটের বিভিন্ন আলোচনা তাঁদের পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

গত ৩১ মে দিবাগত রাতে মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে প্রশাসন। ওই বাসায় তিনি তাঁর বিধবা মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে থাকতেন। মায়ের মৃত্যুর পর ঘরের ভেতরের পরিবেশ ও লাশ উদ্ধারের কিছু ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নূর জাহান বেগমের স্বামী বিআইডব্লিউটিসির সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ২০০৮ সালে মারা যান। অন্যদিকে তাঁর মেয়ের স্বামীও ২০১৭ সালে পরলোকগমন করেন।

মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, তাঁর মা সম্ভবত দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন, তবে কখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাঁর চিকিৎসা করানো হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর বোনও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনলাইনের বিভিন্ন অভিযোগ নাকচ করে বুয়েটের এই শিক্ষক বলেন, সন্তানেরা সব সময়ই মায়ের খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করেছেন এবং সাধ্যমতো পাশে ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে অবহেলার যে দাবি করা হচ্ছে, তা একেবারেই সত্য নয়।

লাশ উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, ফ্ল্যাটের ভেতরের পরিবেশ বেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর ছিল। মরদেহের ময়নাতদন্তের কাজ শেষ হয়েছে এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এই ঘটনাটি দেশের প্রবীণদের প্রতি পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

এএন