সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল আংশিকভাবে বাস্তবায়নের বড় পরিকল্পনা করেছে সরকার। নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭ এর শুরু থেকে অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা আসতে পারে।
প্রাথমিকভাবে মূল ভাতা বাড়ানোর প্রায় অর্ধেক সুবিধা প্রথম ধাপে কার্যকর করা হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মেগা বাজেট পেশ করার সময় পে-স্কেলের এই বিশেষ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর যাবত একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী ও দেশীয় মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঐতিহাসিক ঘোষণা আসতে পারে।
এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি অন্যান্য কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাবদ আরও ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৳৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে কিছুটা বেড়ে ৳৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অবশ্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে আলাদা কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান অন্য খাতের থোক বরাদ্দ ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাবদ সংরক্ষিত বিশেষ তহবিল থেকেই করা হবে।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পে কমিশনের দেওয়া সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি গঠন করেছে।
কমিটি এখনও তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা না দিলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমিয়ে একটি বাস্তবসম্মত সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে পারে।
যদিও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থসংকট কোনো বড় বাধা হবে না বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজেটে বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এছাড়া অপ্রত্যাশিত রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত অর্থও রয়েছে। প্রয়োজন হলে এসব উৎস থেকেই নতুন পে-স্কেলের পুরো ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
ফলে মূল বাজেটে আলাদা বরাদ্দ না থাকলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন আগামী জুলাই থেকেই শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের মূল লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৳৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
সামগ্রিক রাজস্ব ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যার ৪৮ শতাংশ পূরণ হবে বৈদেশিক উৎস থেকে আর বাকি ৫২ শতাংশ মেটানো হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন