বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা

গণচীন সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছালে তাকে রাজকীয় ও জমকালো লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

চীনের ডালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় অত্যন্ত সফলভাবে অংশগ্রহণ শেষে তিনি আজ একটি দূরপাল্লার বুলেট ট্রেনে চড়ে বেইজিংয়ে এসে পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে চীনের রাজধানী বেইজিং এখন উৎসবমুখর।

দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই বেইজিং সফর।

বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বহনকারী উচ্চগতির বুলেট ট্রেনটি বেইজিং চাওইয়াং রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছায়। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে থামার সাথে সাথেই এক আবেগঘন ও আনুষ্ঠানিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

স্টেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা এবং দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের মন্ত্রী ও সেক্রেটারি মিস সুন মেইজুন। প্রধানমন্ত্রী এবং ফার্স্ট লেডি ট্রেন থেকে নেমে আসার পর চীনের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত একদল শিশু তাদেরকে চমৎকার পুষ্পস্তবক উপহার দিয়ে স্বাগত জানায়।

বেইজিং চাওইয়াং রেলওয়ে স্টেশনের ভিভিআইপি লাউঞ্জের বাইরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি সুসজ্জিত সশস্ত্র দলের পক্ষ থেকে স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেইজিং চাওইয়াং রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের একটি সুসজ্জিত ও মোটরশোভাযাত্রার মাধ্যমে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা দিয়াওইয়ুতাই স্টেট গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার এই ঐতিহাসিক অতিথিশালাতেই অবস্থান করবেন।

এর আগে, আজ স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডালিয়ান নর্থ রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে উচ্চগতির বুলেট ট্রেনে চড়ে রওনা হন। ডালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি।

চলতি বছরের এই ফোরামে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের উদীয়মান ভূমিকা, বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

ডালিয়ানে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসায়ী নেতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সাথে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন করেন। ডালিয়ানের সফল সমাপ্তি শেষে বেইজিং সফরটি মূলতচীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে কৌশলগত আলোচনার অংশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বেইজিং সফরে তার সাথে রয়েছেন বাংলাদেশের রাজনীতি, কূটনীতি এবং অর্থনীতি খাতের একঝাঁক শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও উপদেষ্টা।

এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরসঙ্গীদের তালিকা থেকেই স্পষ্ট, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়গুলো এই সফরে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বেইজিং সফরটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বেইজিংয়ে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রিমিয়ার বা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরকালে অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনা বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।

একই সাথে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার উপস্থিতির কারণে ধারণা করা হচ্ছে, জ্বালানি খাতের উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে কথা হবে।

পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বেইজিংয়ের জোরালো ভূমিকা কামনা করবে ঢাকা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক পাড়াতেও ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায়চীনের অন্যতম প্রধান অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কৌশলগত সহযোগিতার এক নতুন ধাপে উন্নীত হবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানিয়েছেন, বেইজিংয়ে আগামী কয়েকদিন বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল বৈঠক, ব্যবসায়িক গোলটেবিল আলোচনা এবং চুক্তি স্বাক্ষরের কর্মসূচি রয়েছে। এই সফরের সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রতিফলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেএইচআর