সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে নবম জাতীয় বেতন স্কেলের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির এক বিশেষ সভায় নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে নীতিগত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন পে স্কেল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সভা সূত্রে জানা যায়, পে কমিশনের অধিকাংশ সুপারিশ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো নিয়ে এখনও বিস্তারিত মূল্যায়ন চলছে।
এ দুই খাতের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় রেখে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ কারণে সচিব কমিটির আরও একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।
নতুন বেতন স্কেলের অন্যতম আলোচিত বিষয় হচ্ছে অবসর-উত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে এলপিআর সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাও নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় সুবিধা পাবেন।
এর ফলে অবসর গ্রহণের প্রক্রিয়ায় থাকা কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি সামনে আসার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করছেন। সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ কারণে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবর মাসের দিকে হাতে পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জুলাই মাস থেকেই বাস্তবায়ন কার্যক্রম ধাপে ধাপে শুরু হবে। সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে পর্যায়ক্রমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানা গেছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন