পে-স্কেল কার্যকর

শেষের ১০ গ্রেডের বেতন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ১০:২৬ এএম
শেষের ১০ গ্রেডের বেতন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোয় নিচের দিকের ১১-২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং ১-১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার বর্তমানে দুই ধাপের একটি মডেল নিয়ে কাজ করছে। ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হলেও প্রজ্ঞাপন জারি, বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাস এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন হাতে পেতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিব কমিটির সুপারিশ শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অর্থ বিভাগ ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পে-কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত সচিব কমিটি ইতোমধ্যে চার দফা বৈঠক সম্পন্ন করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক তিনটি পে-কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে কমিটি শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয়ে তাদের চূড়ান্ত মতামত জমা দেবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে দুই ধাপে এটি বাস্তবায়নের প্রস্তাবটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী— প্রথম বছর পুরো মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং দ্বিতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি বিকল্প প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী— প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হতে পারে।

অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কয় ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে, তা পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। তবে মূল্যস্ফীতি এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সচিব কমিটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। অন্যদিকে, অর্থ বিভাগের কারিগরি কর্মকর্তাদের মতে, মূল বেতন দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ‘আইবিএএস’-এ জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই তাঁরা একবারেই পুরো মূল বেতন কার্যকর করে দ্বিতীয় ধাপে ভাতা সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলে বিদ্যমান বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাস করা হবে। কিছু ভাতা কমানো বা একীভূত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক। দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা কঠিন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে- এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। এর পাশাপাশি প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা দরকার।

এ প্রসঙ্গে প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, নবম পে-স্কেলের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়ের দাবি। মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ধিত বেতন তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে। তবে একই সঙ্গে বিগত সময়ে অনিয়ম ও আর্থিক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত থাকা কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার বিষয়েও সরকারকে তাগিদ দেন এই অর্থনীতিবিদ।

জেএইচআর