সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তার বঞ্চনার অবসান

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তার বঞ্চনার অবসান

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। গত ১ জুলাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ (পেছনের তারিখ থেকে) পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর এবং বকেয়া বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরগুলো থেকে গঠিত বিশেষ কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই সরকারি আদেশ জারি করা হয়। পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণের এই তালিকায় সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী এই কর্মকর্তাদের নামের পাশে উল্লিখিত তারিখ অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি কার্যকর হবে। একই সাথে তাঁরা বিধি মোতাবেক বকেয়া বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা (যেমন- বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা) পাবেন।

নতুন এই আদেশে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আমিনুল করিম এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালীকে তাঁদের পূর্বের অকালীন অবসরের আদেশ সংশোধন করে স্বাভাবিক অবসর ও বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে মেজর জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করে স্বাভাবিক অবসরের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ১ কোটি টাকা বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি যোগ্যতা সাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদায়নের সুপারিশও করা হয়েছে। একইভাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিনুর রহমানকেও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ ৫০ লাখ টাকা বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে রিয়ার এডমিরাল মোস্তাফিজুর রহমান এবং কমডোর এম আই হোসেনের মতো কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বকেয়া সুবিধার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। বিমান বাহিনীর ক্ষেত্রে এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং এয়ার কমডোর সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এই আদেশ বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব পালন করবে। জনস্বার্থে জারি করা এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে এই সংক্রান্ত ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা পূর্বের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

জেএইচআর