ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি, স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি, স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি অববাহিকায় পানির সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা ওই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ১২টি জেলার বিভিন্ন নদীতে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলাগুলো হলো- সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

অববাহিকাভিত্তিক নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস:

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা: গত ২৪ ঘণ্টায় এসব অববাহিকায় পানি কমলেও আগামী দিনগুলোতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে পরবর্তী তিন দিন বাড়তে পারে। গঙ্গার পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে। তবে এই নদীগুলো বিপৎসীমার নিচেই থাকবে।

সুরমা-কুশিয়ারা ও আপার মেঘনা: গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমলেও কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে সতর্ক সীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টির কারণে সুরমা-কুশিয়ারার পানি দ্রুত বেড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবন ঘটাতে পারে।

ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ: জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভগাই, কংস, সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি আগামী ৩ দিন ভারী বৃষ্টির কারণে দ্রুত বাড়বে। ফলে নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনী: গত ২৪ ঘণ্টায় গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে এসব নদীর পানি আরও দ্রুত বাড়বে। ফলে কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ: এই তিন বিভাগের নদীগুলোর (তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, আত্রাই, মহানন্দা, গড়াই ও মাথাভাঙা) পানি বর্তমানে স্থিতিশীল বা কমতির দিকে রয়েছে। আগামী তিন দিন মাঝারি বৃষ্টি হলেও নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেএইচআর