পরিবেশমন্ত্রী

শিল্পায়ন বাড়াতে হবে, তবে পরিবেশ ধ্বংস করে নয়

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
শিল্পায়ন বাড়াতে হবে, তবে পরিবেশ ধ্বংস করে নয়

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য শিল্পায়ন এবং উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন হলেও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ধরনের ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্পকারখানা স্থাপন করা যাবে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত উৎস বা উৎপত্তিস্থল আগে চিহ্নিত করতে হবে। তা না হলে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি ও এর প্রভাব নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও এর মূল উৎস বা সোর্স সম্পর্কে পর্যাপ্ত আলোচনা হয় না। তিনি বলেন, ‘উৎপত্তিস্থলগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে কখনোই টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না।’

বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এ কারণে বর্তমান সরকার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সুরক্ষাকে মানুষের সহনশীল পর্যায়ে রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, যতদিন আমি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, ততদিন পরিবেশ সুরক্ষাকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ধারায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে এবং উৎপাদন বাড়াতে শিল্পকারখানা প্রয়োজন। তবে শিল্পায়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস বা বিপন্ন করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে, আর উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন ইন্ডাস্ট্রি। তবে ইন্ডাস্ট্রি করার নামে আমরা পরিবেশকে নষ্ট বা বিপন্ন করব-এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সেমিনারে পরিবেশ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এম জি