সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু হচ্ছে রেশন সুবিধা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু হচ্ছে রেশন সুবিধা

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক চাপ কমিয়ে কর্মক্ষেত্রে তাদের মনোযোগ ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। গত জুন মাসে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতি মাসে অগ্রগতির প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে। এছাড়া তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই প্রস্তাবের সূত্রপাত হয় গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে। সেখানে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই ঋণ ও ধার-দেনার চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, যা তাদের দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রেশন সুবিধা চালু হলে এ চাপ অনেকটাই কমবে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্থ বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অর্থ বিভাগের সচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে। পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি জানাতে হবে এবং তিন মাস অন্তর অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন জানান, ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো বই আকারে প্রকাশের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি মাসে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রেশন সুবিধা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি অনেকে যে সুযোগ-সুবিধার অভাবকে দুর্নীতির অজুহাত হিসেবে তুলে ধরেন, সেই প্রবণতাও কমতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রেশন বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

বর্তমানে ১২তম গ্রেডে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী বা ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টরের মতো পদ রয়েছে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেড, যা সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে বিবেচিত, সেখানে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পদ অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পাচ্ছেন ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। উদাহরণ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল ও ২ কেজি চিনি বরাদ্দ রয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধা চালুর পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

এএন