যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন জিয়া হত্যার কারিগর মোজাফফর

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন জিয়া হত্যার কারিগর মোজাফফর

৪৫ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মোজাফফর হোসেনকে কোর্ট মার্শালের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের নাম অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় মোজাফফর হোসেন প্রথমে জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোন করে রাষ্ট্রপতির নিহত হওয়ার খবর জানান।

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন। এ মামলায় ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

তদন্ত সূত্র জানায়, পালিয়ে যাওয়ার পর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। পরে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন এবং দীর্ঘ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ছিলেন।

দীর্ঘদিন পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি। পরে বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এএন