এমপি নজরুলের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফাঁস

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
এমপি নজরুলের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফাঁস

নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিতর্কিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর একের পর এক নতুন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। সবশেষ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সত্তরোর্ধ্ব এই এমপিকে এক নারীর সঙ্গে হোটেলের করিডর, লবি, লিফট ও সিঁড়িঘরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর এই নৈতিক স্খলনের খবর এখন দেশজুড়ে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনার জেরে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় সংসদ সদস্য ও আমিনুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনি এলাকা শ্যামনগর প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে তাঁর এমপি পদ থেকে পদত্যাগ দাবি করেছেন।

মামলা ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মরিয়াম বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গোপন রাখতে তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি বড় বড় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন সংসদ সদস্য। সম্পর্কীয় দিক থেকে মরিয়াম এমপির নাতনি হন। গাড়িচালক ওবায়দুরের ভাষ্যমতে, টাকার লোভে মরিয়ামের মা-বাবা এই অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে কোনো আপত্তি করেননি, বরং এমপিকে হাতে রেখে পাঁচ বছরে বড় অঙ্কের অর্থ কামানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই মাসুম বিল্লাহর নামে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল। কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব এমপি নিজেই নিতেন। ওবায়দুর জানান, মাসুম ঠিকাদারির কিছুই বুঝতেন না। তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে সাতক্ষীরার এলজিইডি ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে মোট পাঁচটি কাজের দরপ্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল।

লাইসেন্স ও সরকারি কাজের প্রলোভনের পাশাপাশি মরিয়ামকে জাতীয় সংসদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে ওবায়দুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এই প্রলোভন ও লোভের আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল।

জেএইচআর