মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে, বহুবার যুদ্ধ হয়েছে বৃষ্টিপাত নয়, তবে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, ন্যায্যতা ও আধিপত্য সংক্রান্ত বহু সমস্যার কারণে। অধিকাংশ হামলা-প্রতিক্রিয়া, নিরাপত্তার দাবি, প্রতিশোধ অথবা প্রভাবে নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—এসব মিলেমিশে ঘটনা তৈরি করছে।
বর্তমান যুদ্ধে বিশেষ করে গাজার সঙ্গে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ, বেসামরিক মানুষদের মৃত্যু, মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন সবই গুরুত্ব পাচ্ছে।
কেন বিমান হামলা ও যুদ্ধ প্রবণতা?
সুরক্ষা ও প্রতিরোধের দাবি
ইসরায়েল বলছে, সে হামাস বা অন্যান্য সংগঠনদের “সন্ত্রাসী হামলা” থেকে রক্ষা করতে চায় — রকেট হামলা, আগ্রাসন, হোস্টেজ গ্রেপ্তার ইত্যাদি। তারা আকাশ-পেট্রোল, বিক্ষিপ্ত হামলার নিশানা ধ্বংস, ঘাঁটি ধ্বংস ইত্যাদির মাধ্যমে এই হুমকিগুলোকে কমাতে চায়।
প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা
এসব এলাকায় নিয়ন্ত্রণ, মিরা সীমান্ত, তল্লাশি, ঘাঁটি ধ্বংস করা এসব কিছুই ইসরায়েলের কাছে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত মানে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ইরান, সিরিয়া, লেবানন ভিত্তিক দল। হিজবুল্লাহ, অন্যান্য গোষ্ঠী যারা ইসরায়েলের কাছে হুমকি বলে বিবেচিত হয়, তাদের সাথে ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ বছর ধরে চলেছে। এ কারণে ইসরায়েল মাঝে মাঝে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও হামলা চালায়।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও নেতৃত্বের ভূমিকা
ইসরায়েলের সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান, জনমতের চাপ, নির্বাচন ইত্যাদির কারণে কখনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নেতানিয়াহু প্রশাসনকে মনে হতে পারে কঠোর পদক্ষেপ দেশকে নিরাপত্তার দিক থেকে দৃঢ় দেখাবে, অথবা রাজনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াবে।
মানবিক ও নৈতিক বিষয় ও আইনি সীমাবদ্ধতা
যদিও আন্তর্জাতিক আইনে বেশ কিছু কাজ সীমাবদ্ধ করে। বেসামরিক মানুষ, শিশুরা নিহত হওয়া, হাসপাতাল ধ্বংস হওয়া এসব ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আদালত, মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ তুলছে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে “ধারাবাহিকতা, প্রয়োজনীয়তা, অনুপাতিকতা (proportionality)” বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রয়োগ কঠিন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সমর্থক। অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে সহায়তা করে। তবে এরই মাঝে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশ্বজুড়ে জনমতের পরিবর্তন হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বিরোধী মত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সব সময় সরাসরি “নেতানিয়াহুর নির্দেশে” নয়; সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অপশন, অস্ত্র সাহায্য, শান্তি আলোচনা, আন্তর্জাতিক চাপ এসব মিলিয়ে নীতি গঠন করে।
মানবিক প্রভাব
গাজার মধ্যে প্রচুর বেসামরিক লোক মারা গেছে। নারী, শিশুসহ। হাসপাতাল, স্কুল, বসতঘর ধ্বংস হয়েছে। খাদ্য ও চিকিৎসা পৌঁছানো কঠিন হয়েছে। দুর্ভিক্ষের সংকট, পানির অভাব, বিদ্যুৎ ঘাটতি, অস্থায়ী আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো “সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ” নিয়ে কথা বলছে।
কেন যুদ্ধ থামছে না
বিশ্ব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক স্বার্থ তেল, শক্তি প্রবাহ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, মিত্র দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক—যুদ্ধ থামলে এসব স্বার্থ কিছু ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আত্মরপ্তি না চাওয়া — যেকোন “আলোচনা” বা “শুধু শান্তি চুক্তি” স্বীকারের ক্ষেত্রে কিছু দল তাদের অস্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে পিছিয়ে পড়তে হতে পারে।
নির্ভরযোগ্য পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ — শান্তি চুক্তি হলেও সেটি কার্যকরভাবে মানা হয় কি না, বেসামরিক মানুষদের নিরাপত্তা দেওয়া হয় কি না—এসব সন্দিহান।
শেষ কোথায় যেতে পারে যুদ্ধ?
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার বেড়ে ওঠা জাতিসংঘ, মিত্র দেশ, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা বাড়তে পারে। চাপ বাড়বে ইসরায়েলের ওপর যেন সে মানবিক নীতি মেনে চলে ও বেসামরিক মানুষের ক্ষয় কম হয়।
আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপ বিশ্বে জনমত ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা, দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধীতা বাড়তে পারে।
আংশিক যুদ্ধবিরাম/আলোচনা কখনও কখনও সময়সাপেক্ষ যুদ্ধ বিরাম হয়, বন্দি মুক্তি, সহায়তার প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়, যদিও সম্পূর্ণ শান্তি স্থায়ী নয়।
দীর্ঘ মেয়াদে দুই-রাষ্ট্র সমাধান — অনেক দেশ ও সংস্থা এখনও “একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র” এবং “একটি নিরাপদ ইসরায়েল” সমাধান চায়; যদি সেটি হয়, তাহলে অনেক রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও নিরাপত্তাজনিত বিষয় সমাধান করতে হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন