ঢাকা আজ এক ব্যস্ত ও যান্ত্রিক শহর। গাড়ির শব্দ, ধুলাবালি, গাছের অভাব সব মিলিয়ে শহরটা যেন একটু একটু করে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চাইলে এই শহরকে আবার সবুজ ও সুন্দর করে তোলা সম্ভব। এজন্য দরকার পরিকল্পনা, মানুষের ইচ্ছা আর একটু যত্ন।
ঢাকাকে গ্রীন সিটি করতে হলে প্রথমেই দরকার বেশি করে গাছ লাগানো। রাস্তাঘাট, স্কুল, অফিস, বাসাবাড়ির সামনে যত জায়গা পাওয়া যায়, সেখানে গাছ লাগাতে হবে। শুধু লাগালেই হবে না, গাছটিকে নিয়মিত পানি দিতে হবে, যত্ন নিতে হবে যেন বড় হয়ে শহরের ধুলাবালি আটকাতে পারে, ছায়া দিতে পারে।
গণপরিবহনকে পরিবেশবান্ধব করতে হবে। রাস্তায় যত কম ডিজেল কিংবা পেট্রোলচালিত পুরোনো গাড়ি থাকবে, বাতাস ততটাই পরিষ্কার হবে। এক্ষেত্রে ইলেকট্রিক বাস বা সিএনজি চালিত বড় বাস যত বাড়ানো যায়, ততই ভালো। পাশাপাশি সাইকেল ব্যবহার এবং হাঁটার পথও বাড়াতে হবে। এতে যানজট কমবে, দূষণ কমবে, শহরের জীবনও সহজ হবে।
ঢাকার বাতাস দূষিত হওয়ার বড় একটি কারণ হলো নির্মাণকাজের ধুলো। তাই নির্মাণস্থলে ধুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে।
একইভাবে কালো ধোঁয়া ছাড়ে এমন গাড়িগুলোকেও নিয়মিত পরীক্ষা করে সরিয়ে দিতে হবে।
ঢাকার খাল, লেক ও জলাধারগুলো পুনরুদ্ধার করা খুব জরুরি। এসব জায়গা দখলমুক্ত করে পরিষ্কার রাখতে পারলে শহর বাঁচবে। খালের ধারে হাঁটার পথ, সবুজ গাছপালা, বসার জায়গা তৈরি করা গেলে শহর অনেকটাই প্রাণ ফিরে পাবে। নদীকে বাঁচানো মানে পুরো শহরকে বাঁচানো।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে হবে। বর্জ্য আলাদা করে জৈব, অজৈব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য—এভাবে ফেলা এখনই অভ্যাস করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় ছোট আকারে রিসাইক্লিং সেন্টার করলে ময়লার সমস্যা অনেকটা কমে যাবে।
ঢাকার বাড়িগুলোর ছাদ যদি সবুজ ছাদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে পুরো শহরের তাপমাত্রাই কিছুটা কমে আসবে।
ছাদে সবজি, ফল বা ফুলের বাগান করা গেলে বাতাস পরিষ্কার হয়, মানুষের মনও ভালো থাকে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলে শহরের বিদ্যুৎচাপ কমবে।
সবশেষে সব মিলিয়ে দরকার নাগরিকদের সচেতনতা। শুধু সরকার বা সিটি করপোরেশন কিছু করলেই হবে না; মানুষের নিজের মনোভাব বদলাতে হবে। গাড়ি কম ব্যবহার, পার্ক পরিষ্কার রাখা, নদীতে ময়লা না ফেলা, গাছ লাগানো এসব ছোট ছোট কাজই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ঢাকা যদি চায়, সে আবারও হতে পারে সবুজ, শান্ত, আর বাসযোগ্য একটি সত্যিকারের গ্রীন সিটি।
লেখক: সংগঠক, বাংলাদেশ পরিবেশবিদ সোসাইটি
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন