নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি: ইসিতে জামায়াতের ১৮ দফা প্রস্তাব

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০৩:২৬ পিএম
নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি: ইসিতে জামায়াতের ১৮ দফা প্রস্তাব

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে 'গণরায় ও গণভোট উভয়ের উৎসব' হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এই লক্ষ্যেই দলটি মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছে ১৮ দফা সুপারিশ, যার মধ্যে অন্যতম প্রস্তাব হলো জাতীয় নির্বাচন শুরুর আগেই নভেম্বর মাসে গণভোট আয়োজন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জামায়াতের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার নেতৃত্ব দেন প্রতিনিধিদলে। 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, 'গণভোট আগে হওয়া উচিত। জনগণকে জানতে হবে জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে কী পরিবর্তন আসছে। না জানলে মানুষ কীভাবে ভোট দেবে?

গোলাম পরওয়ার বলেন, একই দিনে নির্বাচনের ভোট আর গণভোট হলে জনগণ প্রকৃত অর্থে বুঝে ভোট দিতে পারবে না। আগে গণভোট আয়োজন হলে জাতি জানবে, তারা কোন সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে।'

তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি—নভেম্বরই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এতে ভোটাররা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাবে।'

জামায়াতের প্রস্তাবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, সরকারি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ভোটের দিন প্রার্থীদের মনিটরিং টিমকে পূর্ণ প্রবেশাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীন পর্যবেক্ষণ এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমতি অন্তর্ভুক্ত আছে।

দলটির প্রস্তাবে আরও বলা হয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হলে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়বে। তাই দুই ভোটের দিন আলাদা করা প্রয়োজন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, 'একইদিনে ভোট হলে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা হতে পারে, ভোট বন্ধও হতে পারে। এতে গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হবে।'

বৈঠকটি “খোলামেলা ও ইতিবাচক” পরিবেশে হয়েছে বলে জানান জামায়াত নেতা।

তিনি বলেন, 'আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধ নয়, সহযোগিতা চাই। আমরা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচনের পরিবেশ সবার জন্য সমান হতে হবে'

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে জোটবদ্ধ দলগুলোর নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সংশোধনী নিয়ে আপত্তি জানানোর বিষয়েও প্রতিক্রিয়া দেন জামায়াতের এই নেতা।

তিনি বলেন, 'উপদেষ্টা পরিষদে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ার পরও অন্য একটি দল সেই সংশোধনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। পরে একজন উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁদের কথোপকথনের ভিত্তিতে বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।'

তিনি অভিযোগ করেন, 'এটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর পরিপন্থী। এক দলের চাপে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলে তা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করবে।'

বিএনপি কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তাকে নিয়োগ থেকে বিরত রাখার দাবি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে গোলাম পরওয়ার বলেন, 'এটা একটি খারাপ নজির। বিএনপির অনেক নেতা ব্যাংক, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালান। কিন্তু আমরা কখনও তা নিয়ে প্রশ্ন তুলি না। একই নীতি সবার জন্য হওয়া উচিত।'

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম, রফিকুল ইসলাম খান, এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম এবং উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, জামায়াতের এ ১৮ দফা প্রস্তাব মূলত আগামী নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জুলাই জাতীয় সনদের গণভিত্তি তৈরি করার কৌশলের অংশ। 

গণভোটের সময়সূচি নিয়ে বিতর্ক যতই বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচন শুধু ভোট নয়, নতুন রাষ্ট্রচিন্তার এক গণ-সংলাপেও রূপ নিতে পারে।

ইএইচ