সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া নিজের পুরো বেতন-ভাতা দান করে সনাতন ধর্মের তিনজন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের আজীবনের দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই মানবিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি জানান, তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ধুলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠি গ্রামের বাসিন্দা তিন প্রতিবন্ধী ভাই রিপন দাস, সাধু দাস ও নিধু দাসের পরিবারের জন্য আজই তাঁর এক মাসের সংসদীয় বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির ভাঙাচোরা বসতবাড়িটি নতুন করে তৈরি এবং তাঁদের নিয়মিত খাবারের স্থায়ী ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সাংসদ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা হলেন সমাজের দর্পণ। গণমাধ্যমে ওই তিন ভাইয়ের মানবেতর জীবনের চিত্র তাঁর নজরে আসার পরপরই তিনি স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাৎক্ষণিক সহায়তার পর তাঁদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু করা হয়েছে।
নাগরিক অধিকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারগুলো রাষ্ট্রের নিশ্চিত করার কথা থাকলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তা সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি স্বাধীন দেশে এখনো ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলের শাসন ব্যবস্থার চল থাকাকে দায়ী করেন। মানুষের তৈরি আইন কেবল আইনপ্রণেতা ও ক্ষমতাবানদের সুবিধা দেয়, সাধারণ মানুষকে নয়।
চলতি সরকারের সমালোচনা করে ড. মাসুদ বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে তাদের ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এলেও এখন bowling করছে সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন করা হবে। বিএনপির এই অবস্থান জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল। তিনি সরকারকে ধোঁকাবাজি বন্ধ করে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।
ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে একটি কল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থা কায়েম হলে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে শতভাগ পূরণ করবে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এই সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসা উচিত।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে ড. মাসুদ স্পষ্ট করেন, তাঁর দল ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। দলমত, ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষকে তাঁরা সমান নাগরিক মনে করেন এবং তাঁদের সব সামাজিক সেবা এই নীতিতেই পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, ইসলামে অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ফলে একটি প্রকৃত সমতাভিত্তিক রাষ্ট্রে 'সংখ্যালঘু' বলে আলাদা করে কাউকে চেনার সুযোগ নেই, বরং সবাই সমান সুযোগ পাবেন। জামায়াতে ইসলামী যা মুখে বলে, তা কাজেই প্রমাণ করে দেখায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন