মির্জা ফখরুল

অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন জনগণের আস্থা ভেঙেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৪:৫৬ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন জনগণের আস্থা ভেঙেছে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। 

বলেন, দেশবাসীর সঙ্গে এমন প্রতারণা করা হয়েছে যা কেউ আশা করেনি।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা এ কথা বলেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দেওয়া কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কমিশনের উপস্থাপিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে একাধিক জায়গায় মূল মতামতের সঙ্গে অসঙ্গতি ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, নোট অব ডিসেন্টগুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু তারা সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেনি। বরং যে জায়গায় জনগণ স্বচ্ছতা আশা করেছিল, সেখানে অস্পষ্টতা তৈরি করা হয়েছে।

বিএনপি সংস্কারমুখী দল এ দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই পরিবর্তনের পক্ষে। মতভেদ থাকলেও জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি। কারণ, আমরা জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমেই পরিবর্তন চাই।

তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের ওপর সংস্কারের বিরোধিতা করার অপবাদ চাপানো হচ্ছে। অথচ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই একদলীয় শাসনের বদলে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

গণভোট নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপের প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গণভোট নির্বাচনের আগে করার কোনো বাস্তব সুযোগ নেই। একই দিনে দুটি ব্যালটের মাধ্যমে ভোট হতে পারে একটি সংসদীয় নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য। কিন্তু কেউ যেন এ ইস্যুতে জনগণকে বিভ্রান্ত না করে।

তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, যারা আজ রাস্তায় নেমে গণভোটের দাবি তুলছে, তারা অতীতে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। এখন আবার তারা জনগণের ভোটাধিকারকে জটিল করে তুলতে চায়।

আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এখন যদি এই সরকারই নির্বাচনের আয়োজক হয়, তবে বিশ্বাস কোথায় থাকবে?

আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এমনই আমরা স্বৈরাচার সরাই, আবার আমাদের মধ্য থেকেই স্বৈরাচার জন্ম নেয়। এবারও সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মন্তব্য করে বলেন, দেশ এখন দুইটি নির্বাচনের ঝুঁকি নিতে পারবে না। অন্তর্বর্তী সরকার তার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।

জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, জেএসডি সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদে দৃঢ়। আজও আমরা সেই অবস্থানেই আছি।

আলোচনার একপর্যায়ে মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করবে, যেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, দেশ এখন যে সঙ্কটে আছে, তা কোনো একক দলের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। ঐক্যবদ্ধ জাতীয় উদ্যোগ ছাড়া গণতন্ত্রের পুনরুত্থান অসম্ভব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুলের আজকের বক্তব্য বিএনপির অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে বিশেষ করে ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদনের প্রতি দলটির অবিশ্বাস ও নির্বাচনের আগে গণভোট ইস্যুতে অনীহা প্রকাশ।