জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে: রুমিন ফারহানা

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:২৮ পিএম
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে: রুমিন ফারহানা

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জনমনে যে প্রশ্ন ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আরও গভীর হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা মাঠে আয়োজিত এক জনসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা সফর শেষে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। 

সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রুমিন ফারহানা সরাসরি বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কী না এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, সেটি পুরোপুরি যৌক্তিক।

তার ভাষায়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যাশা ও সংশয় একসঙ্গে কাজ করছে। 

রুমিন বলেন, একদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নানা শর্ত উপস্থাপন করছে। কেউ পিআর ব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না বলছে, কেউ গণভোট দাবি করছে, আবার কেউ কিছু দলকে নিষিদ্ধ করার কথা বলছে। এসব অবস্থান মিলিয়ে নির্বাচনী পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি মনে করেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও একটি গ্রহণযোগ্য ভোট পরিবেশ নিয়ে সংশয় থাকা দেশের জন্য একটি উদ্বেগজনক বিষয়। 

তার ভাষায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, সবাই যে সেই সুবিধা ছাড়তে রাজি থাকবেন, এমন নয়। এজন্যই মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই নির্বাচন কি সত্যি হবে, আর হলেও তা কি সবার গ্রহণযোগ্য হবে?

জনসভা শেষে সাংবাদিকরা জানতে চান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি কি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন?

এর উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে আমি দলের প্রান্তিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি। তাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়েছি। আমার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তাদের মতামতের ওপরই নির্ভর করবে। তারা যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই হবে আমার সিদ্ধান্ত।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের চেয়ে দলের সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামলকে অগ্রাধিকার দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

সভার আয়োজকেরা জানান, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ বাস্তবায়নে জনসমর্থন গড়ে তুলতেই পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন জনসভাটি আয়োজন করে।

স্থানীয় নেতারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এই ৩১ দফাই হবে ভবিষ্যৎ পথরেখা। তারা মনে করেন, পরিবর্তনের এই আহ্বান মাঠে মানুষের মাঝে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সামসুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুস্তাফা মেম্বার এবং আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাসির মুন্সি।

সমাবেশ শুরুর আগেই বিভিন্ন গ্রাম থেকে মিছিল এসে মাঠে উপস্থিত হতে থাকে। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগঠিত শোভাযাত্রা জনসভাস্থলে পৌঁছালে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক পরিবেশের টানাপড়েনের মধ্যে এ ধরনের জনসমাগমকে নেতাকর্মীরা 'আন্দোলনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন।

রুমিন ফারহানার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত তিনি আগেও দিয়েছেন, তবে এবার তা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ ধরনের মন্তব্য ভোট আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান উত্তাপকে আরও দৃশ্যমান করবে।
অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে তার নরম ও দলমুখী অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন হিসাব তৈরি করতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী আলোচনা যতই তীব্র হচ্ছে, ভোটারদের প্রত্যাশাও ততই প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। রুমিন ফারহানার বক্তব্যেও সেটির প্রতিফলন পাওয়া যায়। মানুষ চায় স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগের নির্বাচন”এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হবে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি। সেই সদিচ্ছা ছাড়া গণতন্ত্রের পরবর্তী ধাপ সামনে এগোবে না।

ইএইচ