বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই পদত্যাগকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে নির্বাচনে না যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে মীর আরশাদুল হক জানান, তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য, মিডিয়া সেল ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, পরিবেশ সেলের প্রধান এবং চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বসহ দলের সব পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করছেন। এই মুহূর্ত থেকে তাঁর সঙ্গে এনসিপির কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই পোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরাকে স্বাগত জানান মীর আরশাদুল হক।
তিনি বলেন, আজ একটি বিশেষ দিনে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেদিন তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন।
মীর আরশাদুল হক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এনসিপির যাত্রা শুরু হলেও গত ১০ মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, দলটি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। যে স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তা আর অবশিষ্ট নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দল ও এর বড় অংশের নেতৃত্ব ভুল পথে চলছে বলেই তাঁর ধারণা।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর তিনি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি শহীদ ও হাজারো আহতের আত্মত্যাগের পরও একটি ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রেও এনসিপির ভূমিকা প্রত্যাশিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রবণতা, ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরি এবং মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন মীর আরশাদুল হক। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও জোটের সরকার গঠনের বিকল্প নেই। তারেক রহমানের বক্তব্য ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তিনি মনে করেন, এই সময়ে সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার যোগ্যতা ও সক্ষমতা তারেক রহমানেরই রয়েছে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে তারেক রহমানের সুস্পষ্ট ও বাস্তবমুখী ভিশনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আবেগ বা হুজুগে না ভেসে দেশের ভবিষ্যৎ ও সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। তারেক রহমানের ভিশনের প্রতি তিনি ব্যক্তিগতভাবে পূর্ণ সমর্থন জানান।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন