আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন তারেক রহমান

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এই দুটি বিষয়কে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার মতে, এই দুটি ক্ষেত্র সফলভাবে সামাল দিতে পারলে দেশের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান অনেকাংশে সহজ হয়ে যাবে। 

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণের সঙ্গে এক একান্ত আলাপচারিতায় নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। উন্মুক্ত পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। 

তারেক রহমান বলেন, প্রথমে জননিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নাগরিকরা রাস্তায় নির্ভয়ে চলাচল করতে পারেন। আর দুর্নীতিকে যেকোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণ বা ‘অ্যাড্রেস’ করতে হবে। এই দুটি বিষয়ের সঠিক সমাধান হলে অন্য সংকটগুলো দ্রুত কেটে যাবে।

ঢাকাকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা ও যানজট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নকশা ও অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে ঢাকা স্থবির হয়ে পড়ছে। এর সমাধানে মনোরেল চালুর পাশাপাশি রাজধানীর আশপাশে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা এবং রেল যোগাযোগ উন্নত করার ওপর জোর দেন তিনি। মেট্রোরেলকে ব্যয়বহুল উল্লেখ করে তিনি সহজ ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে মনোরেল ব্যবস্থার কথা বলেন।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, পড়াশোনাকে আনন্দময় করতে হবে। পাঠ্যবইয়ের চাপ কমিয়ে সৃজনশীলতা ও খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। বিশেষ করে ভূগোলের মতো বিষয় থেকে নম্বর কমিয়ে খেলাধুলায় যুক্ত করা এবং পশুপাখি লালন-পালনের মতো মানবিক বিষয়গুলো শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান তিনি। ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে একটি সমন্বিত টিমের আওতায় আনার পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বামীহারা বা একাকী মা এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীরা এর আওতায় আসবেন। বর্তমানে প্রচলিত ১৩৮টি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে সমন্বিত করে এই কার্ডের মাধ্যমে সর্বজনীন ও সুশৃঙ্খল সেবা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া অনলাইনে নারীদের হয়রানি বা সাইবার বুলিং প্রতিরোধে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও ডিজিটাল এডুকেশন প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেন জাইমা রহমান। তিনি ফেসবুকসহ বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর স্থানীয় কার্যালয় বাংলাদেশে স্থাপনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন।

এই আলাপচারিতায় উপস্থিত ছিলেন, রিল মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী তৌফিকুর রহমান, ফাতিহা আয়াত, রাফায়েতুল আহমেদ, শেখ রিফাদ মাহমুদ, মো. ইসরাফিল, সাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকতারুল ইসলাম, জারিন নাজনীন, রিফাত হাসান এবং রামেসা আনজুম। 

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন।

ইএইচ