আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শীর্ষ শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহারটি উপস্থাপন করেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ঘোষিত এ ইশতেহারে মোট ২২টি দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ছয়টি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।
মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তাদের প্রস্তাবিত ছয়টি কর্মসূচি একটি অপরটির পরিপূরক। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন এবং নাগরিকদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা। এ ছাড়া ঘুষ, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতামুক্ত একটি স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, বিজ্ঞানের পাশাপাশি ধর্মীয় নৈতিকতা সমৃদ্ধ শিক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করা হয়েছে এ ইশতেহারে।
খেলাফত মজলিসের ইশতেহারে ইসলামি আদর্শকে রাষ্ট্রীয় জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে কুরআন ও সুন্নাহকে সর্বোচ্চ নির্দেশিকা হিসেবে গ্রহণ করা।
এ ছাড়া কাদিয়ানি ও আহমদিয়া সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার আইনি উদ্যোগ এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবনদর্শনকে রাষ্ট্রীয় নীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতির কথা বলা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে একটি শক্তিশালী ও স্বায়ত্তশাসিত মঞ্জুরি কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছে দলটি।
দলটি একটি শোষণমুক্ত অর্থনৈতিক মডেলের কথা বলেছে। প্রচলিত সুদি অর্থব্যবস্থার পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি এবং দেশ থেকে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দ্রুততম সময়ে রায় কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সাংবাদিক হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুম খুন বন্ধে বিশেষ তদন্ত সেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ এবং বিনা সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। টেন্ডারবাজি ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতিকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের অঙ্গীকার করেছে দলটি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে তাদের দলীয় প্রতীকে ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হলে এ ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবেন। সেখানে প্রতিটি নাগরিক, তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, তার জানমালের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির কুরবান আলী এবং যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের এ ২২ দফা ইশতেহার ইসলামি ধারার রাজনীতির সমর্থকদের মধ্যে বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন