বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শুনে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শুনে টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানাল পুরো সংসদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শনিবার পুনরায় শুরু হয়েছে। সকাল ১১টা ২ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। বক্তব্যে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র, পারস্পরিক রাজনৈতিক সৌহার্দ্য, দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্য শেষে সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সংসদের সব সদস্য টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন ও সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দুই দেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সফর করা উভয় দেশই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ। রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ বেশি। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্প ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হলেও রপ্তানিকে আরও বহুমুখী করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তার মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরে এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপনের পক্ষেও মত দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা এসব বিষয়ে অবগত থাকলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধরনের চুক্তি হতে হবে উভয় দেশের স্বার্থ বিবেচনায়। বাংলাদেশ যেমন অন্য কোনো দেশের ক্ষতি চায় না, তেমনি নিজের স্বার্থও ক্ষুণ্ন হতে দিতে পারে না।

সংসদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারি দল যেমন বিরোধী দলকে সম্মান করবে, তেমনি বিরোধী দলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। একই সঙ্গে সরকারের সফলতা কামনা করে উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রতি নিজের সমর্থন জানান।

এএন