আজ শুক্রবার সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা। দিনটি উপলক্ষে বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান, ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপনে মেতে উঠেছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ।
বৌদ্ধধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে বৈশাখী পূর্ণিমার এই দিনেই মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপরিনির্বাণ সংঘটিত হয়। এই তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে দিনটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত এবং বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
গৌতম বুদ্ধের জীবনদর্শনের মূল ভিত্তি হলো অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও সহাবস্থান। তিনি শিখিয়েছেন-হিংসা দিয়ে হিংসা নয়, বরং অহিংসার মাধ্যমেই বৈরিতা দূর করতে হবে। তার মতে, মানুষ জন্মগতভাবে নয়, বরং কর্মের মাধ্যমে মহান বা নীচে পরিণত হয়।
উৎসব উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের পথ নির্দেশ করে।
বৌদ্ধধর্মের পঞ্চশীল নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। এই নীতিগুলো হলো-প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার পরিহার, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি প্রেম, দয়া ও অহিংসা বৌদ্ধধর্মের মৌলিক শিক্ষা।
এদিকে রাজধানীর সবুজবাগে ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল সাড়ে ৯টায় ‘বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনের সহসভাপতি বুদ্ধপ্রিয় মহাথের এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে সকাল ১০টায় বুদ্ধপূজা ও শীল গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে সন্ধ্যা ৬টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন