ঈদের নামাজের নিয়ত-নিয়ম, দোয়া ও খুতবা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৬:৫২ এএম
ঈদের নামাজের নিয়ত-নিয়ম, দোয়া ও খুতবা

ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ জোহরের নামাজের সময় শুরু হওয়ার আগে ঈদের নামাজ পড়তে হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।

ঈদের নামাজের বিধান: ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত এবং এটি পড়া ওয়াজিব। ঈদের নামাজ খোলা জায়গায় (ঈদগাহে) আদায় করা উত্তম, তবে মসজিদেও পড়া যায়। এই নামাজ অবশ্যই জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়, জামাত ছাড়া একা একা ঈদের নামাজ পড়ার কোনো বিধান নেই। ঈদের নামাজের জন্য কোনো আজান ও ইকামতের প্রয়োজন হয় না। জুমার নামাজের মতোই এতে উচ্চ আওয়াজে কেরাত পাঠ করা হয়। তবে জুমার খুতবা নামাজের আগে দেওয়া হলেও ঈদের খুতবা দেওয়া হয় নামাজ শেষ হওয়ার পর।

ঈদের নামাজের নিয়ত: নিয়ত মূলত মনের ইচ্ছা। নামাজের জন্য যখন কেউ দাঁড়ায়, তখন তার মনে কোন ওয়াক্তের নামাজ পড়ছে সেই সচেতনতা থাকাই যথেষ্ট। ঈদুল আজহার নামাজে দাঁড়ানোর সময় মনে এই বিশ্বাস থাকতে হবে যে- আমি অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে ঈদুল আজহার ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি।

সহজে বাংলায় এভাবে নিয়ত করা যায়-‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে আদায়ের নিয়ত করছি।’ এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধতে হবে। যারা আরবিতে নিয়ত করতে চান, তারা এভাবে পড়তে পারেন:

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া, লিল্লাহি তাআলা, রাকাআতাইন সালাতিল ঈদিল আজহায়ি, মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি, ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা, ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল, কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আমি ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করছি- আল্লাহু আকবার। (উল্লেখ্য, আরবিতে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়)।

ঈদের নামাজের নিয়ম
প্রথম রাকাত:

১. শুরুতে নামাজের নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধতে হবে।
২. এরপর সানা পড়তে হবে। সানা হলো-সুবহানাকা আল্লাহুম্মা, ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।
৩. সানা পড়ার পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হবে। এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মাঝে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরতি দিতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরের সময় উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নিতে হবে।
৪. এরপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে।
৫. ইমাম সুরা ফাতিহা পড়ে অন্য একটি সুরা মেলাবেন। এরপর সাধারণ নামাজের মতোই রুকু ও সিজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ হবে।

দ্বিতীয় রাকাত:
১. দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে ইমাম প্রথমে বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতিহা তেলাওয়াত করবেন।
২. এরপর অন্য যেকোনো একটি সুরা মেলাবেন।
৩. সুরা মেলানোর পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির দিতে হবে। এই তিন তাকবিরেই উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে (হাত বাঁধা যাবে না)। এরপর চতুর্থ তাকবির দিয়ে রুকুতে চলে যেতে হবে।
৪. রুকু-সিজদা শেষ করে যথানিয়মে তাশাহুদ, দরুদ শরিফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে উভয় দিকে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করতে হবে।

ঈদের দোয়া ও তাকবির: ঈদুল আজহার নামাজের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করা মুস্তাহাব। নামাজের আগ পর্যন্ত এই তাকবির পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তাকবিরটি হলো-

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, এবং সব প্রশংসা কেবল আল্লাহরই।

ঈদের খুতবা: রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা ঈদের নামাজের পর খুতবা দিতেন। আবদুল্লাহ বিন সায়েব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন- ঈদে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের নামাজ পড়িয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, আমরা নামাজ শেষ করেছি। যার ইচ্ছা সে খুতবা শোনার জন্য বসবে, আর যে চলে যেতে চায়, সে চলে যাবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

ঈদের নামাজ আদায়ের পর ইমামের খুতবা দেওয়া সুন্নাত এবং মুসল্লিদের জন্য অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে সেই খুতবা শোনা নৈতিক দায়িত্ব।

জেএইচআর