স্যামসাং স্মার্টফোন দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
স্যামসাং স্মার্টফোন দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি

 করে বর্তমানের দ্রুতগতির জীবনে, যেখানে আমাদের প্রতিটি কাজ স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে চার্জের দুশ্চিন্তা ছাড়া সারাদিন ফোন ব্যবহার করতে পারাটা এক বিরাট স্বস্তি।

আপনি যদি এমন একটি স্যামসাং ফোন খুঁজছেন যা একবার চার্জ দিলে দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ দেবে, তবে নিচের এই ১০টি ফোনের তালিকা আপনার জন্য সহায়ক হবে। স্মার্টফোন জগতে এক সময় স্যামসাংকে শুধু তাদের ডিসপ্লে এবং ক্যামেরার জন্য চেনা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে কোম্পানিটি তাদের প্রসেসর এবং সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে ব্যাটারি ব্যাকআপে অভাবনীয় উন্নতি করেছে।

‎স্যামসাংয়ের বর্তমান ফ্ল্যাগশিপ লাইনআপের রাজা হলো গ্যালাক্সি এস ২৪ আল্ট্রা। এটি কেবল শক্তিশালী পারফরম্যান্সের জন্যই নয়, বরং এর দুর্দান্ত ব্যাটারি লাইফের জন্য বর্তমানে বাজারে শীর্ষে রয়েছে। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের লেটেস্ট স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৩ প্রসেসর, যা অত্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। সাধারণ ব্যবহারে এটি অনায়াসেই ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা স্ক্রিন অন টাইম প্রদান করে। এর ১ হার্টজ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট ব্যাটারি খরচ কমাতে সাহায্য করে। ভারী গেমিং বা প্রফেশনাল ভিডিওগ্রাফির পরেও এটি দিনের শেষভাগ পর্যন্ত টিকে থাকে।

‎অনেকেই আল্ট্রা মডেলের বিশাল আকার বা দামের কারণে একটু ছোট কিন্তু শক্তিশালী ফোন খোঁজেন। তাদের জন্য গ্যালাক্সি এস ২৪ প্লাস একটি আদর্শ পছন্দ। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৪৯০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। এটি প্রায় আল্ট্রা মডেলের কাছাকাছি পারফরম্যান্স দেয়। এতে পাওয়া যাবে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার স্ক্রিন টাইম। যারা বড় ডিসপ্লে পছন্দ করেন কিন্তু আল্ট্রা মডেলের অতিরিক্ত ওজন বা এস পেন প্রয়োজন মনে করেন না, তাদের জন্য এটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির সেরা বিকল্প।

‎নতুন মডেল বাজারে আসার পরেও গ্যালাক্সি এস ২৩ আল্ট্রা এর জনপ্রিয়তা কমেনি, বিশেষ করে এর ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশনের কারণে। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ২ প্রসেসরটি এতটাই দক্ষ যে এটি ১১ থেকে ১৩ ঘণ্টা ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। যারা ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতা চান কিন্তু কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে, যেহেতু এটি আগের বছরের মডেল, তাদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য পাওয়ারহাউস।

গ্যালাক্সি এস ২৩ সিরিজের এই প্লাস ভেরিয়েন্টটি ব্যাটারি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুপরিচিত। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৪৭০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। এর কম রেজোলিউশনের ডিসপ্লে আল্ট্রার তুলনায় ব্যাটারি বাঁচাতে সাহায্য করে। এটি অনায়াসেই ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ব্যবহার করা যায়। এর কম্প্যাক্ট ডিজাইন এবং প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটির সাথে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যবহারকারীদের দারুণ অভিজ্ঞতা দেয়।

‎স্যামসাংয়ের ফ্যান এডিশন সিরিজের গ্যালাক্সি এস ২৪ এফই ফোনটি ফ্ল্যাগশিপ এবং মিড রেঞ্জের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করে। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৪৭০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। এক্সিনোস বা স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের সমন্বয়ে এটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেয়। কম দামে যারা ফ্ল্যাগশিপের স্বাদ এবং ভালো ব্যাটারি লাইফ চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার ডিল।

‎মধ্যম বাজেটের ফোনের মধ্যে গ্যালাক্সি এ ৫৫ বর্তমানে ব্যাটারি লাইফের দিক থেকে সবাইকে চমকে দিয়েছে। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। এর নতুন এক্সিনোস ১৪৮০ চিপসেটটি ব্যাটারি সাশ্রয়ে অত্যন্ত কার্যকর। এটি ১১ থেকে ১৩ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম প্রদান করে। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রিমিয়াম ফোনের চেয়েও বেশি সময় টিকে থাকে। মধ্যবিত্ত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি স্যামসাংয়ের সেরা ব্যাটারি ফোন।

‎গত বছরের অন্যতম সেরা বিক্রিত ফোন ছিল গ্যালাক্সি এ ৫৪। এর ব্যাটারি পারফরম্যান্স আজও প্রশংসনীয়। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। নিয়মিত আপডেট এবং সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে এটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ব্যাকআপ নিশ্চিত করে। যারা প্রিমিয়াম লুক এবং টেকসই ব্যাটারি চান কিন্তু বাজেট কিছুটা কম, তাদের জন্য এটি সঠিক সিদ্ধান্ত।

‎বাজেট বান্ধব ফোনের তালিকায় গ্যালাক্সি এ ৩৫ একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। এটি মাঝারি মানের ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেয়। সাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এবং ব্রাউজিংয়ের জন্য এটি আপনাকে সারাদিন চার্জের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখবে।

‎গ্যালাক্সি এ ৩৪ ফোনটি এর প্রসেসর এবং ডিসপ্লের চমৎকার ভারসাম্যের জন্য পরিচিত, যা ব্যাটারি সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখে। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। এর ডাইমেনসিটি প্রসেসরটি খুব কম শক্তি খরচ করে, ফলে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা অনায়াসেই ব্যবহার করা যায়। যারা স্টুডেন্ট বা অফিসের কাজের জন্য দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি বেশ সাশ্রয়ী।

‎আমাদের তালিকার শেষ ফোনটি হলো এন্ট্রি লেভেলের গ্যালাক্সি এ ২৫। কম দামি ফোনের মধ্যেও যে স্যামসাং ভালো ব্যাটারি দিতে পারে, এটি তার প্রমাণ। এর ব্যাটারি ক্ষমতা ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার। সাধারণ কাজে এটি ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম দিতে পারে। যারা খুব বেশি ভারী কাজ করেন না কিন্তু দীর্ঘ সময় ফোনটি চালু রাখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ বাজেট ফোন।

‎শুধুমাত্র ভালো ব্যাটারির ফোন কিনলেই হয় না, তার সঠিক যত্নও প্রয়োজন। স্যামসাং ফোনের ব্যাটারি লাইফ আরও বাড়াতে আপনি কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেন। ফোনের ব্রাইটনেস সব সময় ফুল না রেখে অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস বা অটো মোডে রাখুন। স্যামসাংয়ের অ্যামোলেড ডিসপ্লেতে অন্ধকার মোড বা ডার্ক মোড ব্যবহার করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চার্জ বাঁচে। খুব প্রয়োজন না হলে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট কমিয়ে ৬০ হার্টজ ব্যবহার করতে পারেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা ভারী অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ব্যাটারি দ্রুত শেষ করে দেয়, তাই ডিভাইস কেয়ার অপশন ব্যবহার করে এগুলো অপ্টিমাইজ করুন। ব্যাটারি ২০ শতাংশের নিচে নামার আগে চার্জ দিন এবং ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ হলে খুলে ফেলুন, যা ব্যাটারির আয়ু দীর্ঘ করে।

‎স্যামসাং এখন আর কেবল সুন্দর ডিজাইনের ফোন নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের এক বিশ্বস্ত নাম। আপনি যদি একদম সেরা এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা চান, তবে গ্যালাক্সি এস ২৪ আল্ট্রা আপনার সেরা পছন্দ। আবার যদি বাজেটের মধ্যে সেরা ব্যাটারি ব্যাকআপ খুঁজেন, তবে গ্যালাক্সি এ ৫৫ আপনাকে মুগ্ধ করবে।

স্মার্টফোন কেনার আগে নিজের ব্যবহারের ধরন এবং বাজেট বিবেচনা করে ওপরের তালিকা থেকে আপনার পছন্দের ফোনটি বেছে নিতে পারেন। মনে রাখবেন, একটি ভালো ব্যাটারি লাইফ সম্পন্ন ফোন মানেই হলো আপনার দৈনন্দিন কাজগুলোতে আরও বেশি গতি এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ।