সমালোচনার জেরে ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত এআই ফিচার প্রত্যাহার করল মেটা

প্রযুক্তি ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
সমালোচনার জেরে ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত এআই ফিচার প্রত্যাহার করল মেটা

ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও সম্মতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইনস্টাগ্রামে চালু করা একটি বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রত্যাহার করেছে এর মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। নতুন এই ফিচারটি চালুর পর থেকেই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারী ও অধিকারকর্মীদের তীব্র আপত্তির পর এটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

মেটা জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের মতামত ও বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠনের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়েই ফিচারটি বন্ধ করা হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

‘মিউজ ইমেজ’ নামের ফিচারটির মাধ্যমে ইনস্টাগ্রামের পাবলিক (সবার জন্য উন্মুক্ত) প্রোফাইলের ছবি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন ছবি তৈরি করা যেত। কোনো ব্যবহারকারীর পাবলিক প্রোফাইলের নাম প্রম্পটে উল্লেখ করলেই সেই অ্যাকাউন্টে থাকা ছবির ভিত্তিতে নতুন চিত্র তৈরি করতে সক্ষম ছিল এই টুল।

টেকক্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, ফিচারটি চালুর সময় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় (ডিফল্ট) অবস্থায় ছিল। ফলে ব্যবহারকারীরা নিজে থেকে অপ্ট-আউট না করলে তাদের উন্মুক্ত ছবিগুলো এআই-নির্ভর ছবি তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারত। এ বিষয়টিকেই গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি হিসেবে দেখেছেন অনেক ব্যবহারকারী।

এ বিষয়ে মেটা বলেছে, ব্যবহারকারীরা যেন নিজেদের পাবলিক কনটেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই একটি সৃজনশীল টুল ব্যবহার করতে পারেন—এমন লক্ষ্য নিয়েই ফিচারটি আনা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া পায়নি। তাই ফিচারটি আর ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে না। টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, সমালোচনা দ্রুত বাড়তে থাকায় চালুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফিচারটি গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী ও গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোরও সমালোচনার মুখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন স্যাগ-আফট্রা বলেছে, কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে এআই টুল তৈরি বা পরিচালনার আগে অবশ্যই তার স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া উচিত। অন্যথায় কারও অনুমতি ছাড়াই তার ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, এআইভিত্তিক প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কোনো এআই ফিচার নিয়ে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত বিতর্ক দেখা দিলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

এএন