চিকিৎসক দম্পতি সুষমা-কুশলের বিচ্ছেদ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
চিকিৎসক দম্পতি সুষমা-কুশলের বিচ্ছেদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশল পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্তের কথা শনিবার (২৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় জানান ডা. সুষমা রেজা।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা ও আত্মসমালোচনার পর তারা দুজনই পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে যারা তাদের ভালোবেসেছেন ও পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই অন্য কোনো সূত্রে নয়, নিজেদের পক্ষ থেকেই এ সিদ্ধান্ত জানাতে চেয়েছেন। জীবনের নতুন অধ্যায়ে সবার দোয়া কামনাও করেছেন তারা।

ডা. সুষমা রেজা জানান, অল্প বয়সে শুরু হওয়া তাদের পথচলা প্রায় দুই দশক ধরে চলেছে। এই সময়ে তারা একটি পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের বড় হতে দেখেছেন এবং জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও অর্জনের সাক্ষী হয়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা উপলব্ধি করেছেন, সম্পর্কটি আর আগের অবস্থানে নেই। সেই উপলব্ধি থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াকেই তারা সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

তিনি আরও লেখেন, দীর্ঘ সম্পর্কের মতো তাদের জীবনেও আনন্দ, সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা ও অসংখ্য আশীর্বাদ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া মুহূর্তগুলো কোনো নিখুঁত সম্পর্কের ছবি ছিল না; বরং সেগুলো ছিল তাদের জীবনের বাস্তব ও আন্তরিক স্মৃতির অংশ।

পোস্টে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি অনুরোধ জানান, এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে যেন গুজব, অনুমান বা অপ্রয়োজনীয় বিচার-বিশ্লেষণের বিষয় না করা হয়।

বিশেষ করে সন্তান, বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই পরিবর্তন তাদের সবার জন্যই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক।

বার্তার শেষাংশে ডা. সুষমা রেজা উল্লেখ করেন, প্রায় ২০ বছরের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও তারা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চান। একই সঙ্গে সবাইকে পরিবারের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোই একসময় সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিতে পরিণত হয়। তাই প্রিয় মানুষদের সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত সচেতনতা, কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বাঁচার পরামর্শ দেন তিনি।

এম জি