ড. মুহাম্মদ ইউনূস: একটি নাম নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্মুখযোদ্ধা

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
ড. মুহাম্মদ ইউনূস: একটি নাম নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্মুখযোদ্ধা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একটি নাম যার সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সম্মান, নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির গৌরব, এবং সারাবিশ্বে শান্তি ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি।

তিনি শুধু একজন অর্থনীতিবিদ বা সমাজকর্মী নন, তিনি এখন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নতুন এক ইতিহাস গড়ছেন। 

৮০ বছরের বেশি বয়স হলেও তিনি যেন এক অবিরাম শক্তির উৎস। প্রতিদিন নতুন করে চিন্তা করছেন, পরিকল্পনা করছেন, ছুটে চলেছেন তরুণদের মতো, শুধু একটি লক্ষ্য সামনে রেখে—“একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনসম্পন্ন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ: নতুন আশার সঞ্চার

ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন প্রধান উপদেষ্টার শপথ গ্রহণ করেন, তখন দেশ ছিল এক কঠিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে। জনমনে ছিল ভয়, হতাশা ও অনিশ্চয়তা। 

তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, “বাংলাদেশ সবার দেশ। এখানে কারো একক অধিকার নেই। আমাদের সবাইকে মিলে এমন একটি সমাজ গড়তে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, মানবতা ও সমতা থাকবে।”

তার এই আহ্বান জনমনে নতুন আশা জাগায়। শুধু রাজধানীতে নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও মানুষের মধ্যে ফিরে আসে আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি।

রেমিটেন্স যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রথম থেকেই নীতি গ্রহণ করেন তাদের স্বার্থ রক্ষায়। 

তিনি নিশ্চিত করেছেন, প্রবাসী আয়ের উপর কোনো অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে না এবং হুন্ডি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে রেমিটেন্স প্রেরণের নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যাতে প্রবাসীরা সহজে ও নিরাপদে অর্থ পাঠাতে পারেন।

একজন প্রবাসী শ্রমিক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “প্রধান উপদেষ্টার উদ্যোগে এখন আমরা আমাদের কষ্টার্জিত টাকা কোনো দালাল ছাড়াই সরাসরি দেশে পাঠাতে পারছি। এটি সত্যিই বড় স্বস্তি।”

দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকাল শুরু হওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-গভর্নেন্স বাড়ানো হয়েছে। সরকারি অফিসে ঘুষ বন্ধে হটলাইন চালু করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান একেবারেই আপোষহীন। তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি দমন সম্ভব।”

শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ও তরুণদের ভূমিকা

প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষার মান উন্নয়নে। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা তহবিল বাড়ানো হয়েছে, প্রযুক্তি শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তিনি মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই, তাই তাদেরকে সঠিক শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। আমি তাদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে তারা স্বপ্ন দেখতে পারবে, উদ্যোগ নিতে পারবে এবং ব্যর্থতার ভয় ছাড়াই এগিয়ে যেতে পারবে।”

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং জবাবদিহিতাপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে এটি হবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এক নতুন মাইলফলক।

দেশের বাইরে সম্মান বৃদ্ধি

ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নতুনভাবে উজ্জ্বল হয়েছে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে সহায়তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাংলাদেশের নতুন পরিবর্তনের গল্প প্রচার করছে।

ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: স্বপ্ন থেকে বাস্তবে

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ এখন এক নতুন যাত্রাপথে

তিনি বলছেন, “বাংলাদেশ হবে এমন একটি দেশ যেখানে কেউ গরিব থাকবে না, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ন্যায়বিচার সবার অধিকার হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেন নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে। তার প্রতিটি পদক্ষেপে দৃশ্যমান হচ্ছে সুশাসনের রূপরেখা, জনগণের আস্থা এবং এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্মেষ। ৮০ বছরের বেশি বয়সে তিনি তরুণদের মতো ছুটে বেড়াচ্ছেন, যেন সত্যিকার অর্থে “জনগণের সেবক” হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।

আজ প্রয়োজন, জনগণকে সাথে নিয়ে এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখা। কারণ নতুন বাংলাদেশ গড়া শুধু একজন নেতার কাজ নয়—এটি আমাদের সবার দায়িত্ব।

এইচআর/ইএইচ