দেশের জন্য ‘বিশেষ পরিকল্পনা’ আছে তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ১১:০৭ পিএম
দেশের জন্য ‘বিশেষ পরিকল্পনা’ আছে তারেক রহমানের

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে বীরের বেশে স্বদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় অবতরণের পর থেকে তাঁকে ঘিরে দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। শুক্রবার বিকেলে সাভার ও ঢাকার উপকণ্ঠে সমবেত লাখো মানুষের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। 

তারেক রহমান দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “দেশের জন্য এবং এ দেশের মানুষের জন্য আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।”

তার এই পরিকল্পনাটি দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনে তিল তিল করে গড়ে তোলা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। 

তারেক রহমান তার বক্তব্যে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “পাহাড় কিংবা সমতল মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা সবাই মিলে একটি নিরাপদ ভূখণ্ড গড়তে চাই। যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।”

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল যখন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতার এই ফেরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, “তারেক রহমানের উপস্থিতি অনিশ্চয়তা কমিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।”

কলামিস্ট শাফকাত রাব্বিসহ অনেক বিশ্লেষকের মতে, তারেক রহমানের এবারের রাজনীতি হবে মূলত ‘পলিসি’ বা নীতিভিত্তিক। আন্তর্জাতিক মহলেও তাকে একজন ‘পরিপক্ব ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি উগ্রপন্থা এড়িয়ে একটি দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জামায়াতের সাথে দীর্ঘদিনের জোট থেকে সরে এসে বিএনপি নিজেদের একটি মধ্যপন্থী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির তৃণমূলকে যেমন উজ্জীবিত করেছে, তেমনি দোদুল্যমান ভোটারদেরও দলের প্রতি আকৃষ্ট করবে। এখন তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ হলো একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং দেশ শাসনে নিজের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির চূড়ান্ত প্রমাণ দেওয়া।

ইএইচ