২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ভারতের মাটিতে টাইগারদের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবির চরম উদ্বেগকে পাশ কাটিয়ে আইসিসি দেশটিকে ভারতের ভেতরেই খেলার জন্য চাপ দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।
ভারতের একাধিক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার কোনো পরিকল্পনা আইসিসির নেই। বরং কলকাতাকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ ভারতের দুটি শহরে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিসিবি গত কয়েক দিনে দুবার আইসিসিকে চিঠি লিখে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, বর্তমানে ভারতে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিসিবির দাবি ছিল ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া। তবে আইসিসি মনে করছে, টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভেন্যু স্থানান্তর করা লজিস্টিক কারণে অসম্ভব। বিকল্প হিসেবে আইসিসি এখন চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমকে ভেন্যু হিসেবে ভাবছে।
ক্রিকবাজ ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরই মধ্যে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে আইসিসি ও বিসিসিআই। তাদের যুক্তি হলো, দক্ষিণ ভারতে উত্তর ভারতের তুলনায় পরিস্থিতির ভিন্নতা থাকতে পারে।
আইসিসি বিসিবির নিরাপত্তা শঙ্কার দাবির বিপরীতে একটি শক্তিশালী উদাহরণ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত রোববার গুজরাটে ভারত নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে আম্পায়ারিং করেছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত।
আইসিসি সম্ভবত এই উদাহরণটি টেনে বলতে পারে যে, যদি একজন বাংলাদেশি আম্পায়ার নিরাপদে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন, তবে ক্রিকেট দলের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকার কথা নয়। তবে বিসিবি মনে করছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে একজন আম্পায়ার এবং একটি জাতীয় দলের বিশাল বহর ও হাজার হাজার বাংলাদেশি দর্শকের নিরাপত্তার বিষয়টি মোটেও এক নয়। আইসিসি যদি শেষ পর্যন্ত ভারতের ভেতরেই ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়, তবে বিসিবি তা গ্রহণ করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
শনিবার সিলেটে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারতের অন্য ভেন্যু মানে তো ভারতেই খেলা। আমরা যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম, সেখানেই আছি। আমরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নেব না, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি উগ্রপন্থীদের চাপের মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই এই সংকটের শুরু। বিসিবির প্রশ্ন হলো, যদি একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পেরে তাকে বাদ দেওয়া হয়, তবে পুরো দলকে কীভাবে সেখানে পাঠানো সম্ভব?
গতকাল গুজরাটের বরোদরায় বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বৈঠকেই বিসিবির চিঠির জবাব এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে দক্ষিণ ভারতের শহরগুলোর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। আইসিসির মতে, সম্প্রচার স্বত্ব, হোটেল বুকিং এবং বিমান টিকিট ব্যবস্থাপনার মতো লজিস্টিক বিষয়গুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা এই অল্প সময়ে সম্ভব নয়।
সোমবার বিসিবিকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারে আইসিসি। যদি আইসিসি ভারতকে ভেন্যু হিসেবে পরিবর্তনের দাবি নাকচ করে দেয়, তবে বাংলাদেশ বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের দিকে যেতে পারে।
কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, ভারত থেকে ভেন্যু না সরলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বর্জন বা নিরপেক্ষ ভেন্যুর জন্য উচ্চতর পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। আইসিসির অবস্থান অনুযায়ী তারা শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু স্থানান্তর করতে নারাজ বরং ভারতের ভেতরেই চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমের মতো বিকল্প ভেন্যু খুঁজছে। শেষ মুহূর্তে দেশ পরিবর্তন করা লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে আইসিসি।
অন্যদিকে বিসিবির যুক্তি হলো মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে না পারলে পুরো দলের ঝুঁকি কেন নেবে বাংলাদেশ। বিসিবি সভাপতির স্পষ্ট বার্তা হলো ভারতের অন্য শহর মানেও ভারতেই খেলা যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অগ্রহণযোগ্য। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এই সংকট এখনো কাটেনি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন