পবিত্র কোরআনে চুমু খেয়ে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করল ইরান

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
পবিত্র কোরআনে চুমু খেয়ে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করল ইরান

নানা জটিলতা ও বাধা পেরিয়ে অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চের জন্য নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে ইরান ফুটবল দল। মেহদি তারেমির নেতৃত্বাধীন দলটি তুরস্ক থেকে মেক্সিকোতে তাদের প্রধান অনুশীলন ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে দেশ ছাড়ার আগে ইরানি ফুটবলাররা তাদের দীর্ঘদিনের চেনা ঐতিহ্য ধরে রেখে পবিত্র কোরআন শরীফে চুমু খেয়ে এবং কোরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে গিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছেন।

চলতি জুনে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই ইরান খেলবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। তবে টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিতে দলটির ক্যাম্প করা হচ্ছে মেক্সিকোয়।

মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশেষ বিদায়ী অনুষ্ঠানে দেখা যায়, ফুটবলার ও দলের শীর্ষ কর্মকর্তারা পবিত্র কোরআন চুম্বন করছেন এবং পরম শ্রদ্ধায় কোরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইরানি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে এই রীতিটি দীর্ঘদিনের পুরোনো। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সফর, পরীক্ষা বা বড় অভিযানের আগে পবিত্র কোরআন চুম্বন করা এবং তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করাকে মহান আল্লাহর বিশেষ সুরক্ষা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সফলতার আশীর্বাদ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি শুধু ধর্মীয় আচারের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশটির জাতীয় ঐক্য, বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের গর্বেরও বহিঃপ্রকাশ।

মাঠের কঠোর প্রস্তুতির পাশাপাশি দলটিকে এই মুহূর্তে মোকাবিলা করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংক্রান্ত তীব্র জটিলতাও। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুটবলাররা শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেও ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রধান প্রশাসনিক সদস্য ও কারিগরি উপদেষ্টাসহ প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সদস্য এখনও ভিসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

ওয়াশিংটনের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভিসা জটিলতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে জানিয়েছে, জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীদের শেষ মুহূর্তে ভিসা না দেওয়া স্পষ্ট বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল। তাদের দাবি, ফুটবল দলের সঙ্গে যুক্ত অনেক অপরিহার্য সদস্য এখনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

একই ধরনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশনও। নিজেদের এক প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছে, ফুটবল দলের প্রধান প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সময়মতো ভিসা না দেওয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি কোনো ক্রীড়াসুলভ সিদ্ধান্ত নয়।

বিশ্বকাপে ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চলমান ভিসা জটিলতার কারণে দলটি তাদের মূল পরিকল্পনা আংশিক পরিবর্তন করে মেক্সিকোকে প্রধান অনুশীলন ক্যাম্পের ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে।

মাঠের বাইরের এমন চরম অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মাঠের পারফরম্যান্সে বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে ইরান। নিজেদের শেষ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে তারা গাম্বিয়া আর মালিকে অনায়াসে হারিয়ে দারুণ ইতিবাচক ফল নিয়েই বিশ্বমঞ্চে পা রাখছে।

এএন