স্পেন-পর্তুগাল লড়াইয়ে কে জিতবে, জানালো সুপার কম্পিউটার

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
স্পেন-পর্তুগাল লড়াইয়ে কে জিতবে, জানালো সুপার কম্পিউটার

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন ও পর্তুগাল। আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই ফুটবল শক্তির এই লড়াইকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, পরিসংখ্যান এবং দলীয় ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে অপটা সুপার কম্পিউটার এই ম্যাচে স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে। তবে নকআউট পর্বে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অভিজ্ঞতা ও পর্তুগালের সামর্থ্যকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই মত বিশ্লেষকদের।

অপটার ২৫ হাজার প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশন অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৮.৬ শতাংশ। অন্যদিকে পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৫.৬ শতাংশ। আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ২৫.৮ শতাংশ।

শেষ ষোলোতে ওঠার পথে দুই দলের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। রবার্তো মার্টিনেজের দল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর জয় তুলে নেয়। অতিরিক্ত সময়ে গঞ্জালো রামোসের গোল, বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে প্রথম গোল মিলিয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে পরবর্তী পর্ব নিশ্চিত করে পর্তুগাল।

এবার তাদের লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। এর আগে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দুটি নকআউট ম্যাচ জিতেছিল পর্তুগাল। এরপর সেই ধারাবাহিকতা আর ধরে রাখতে পারেনি দলটি।

অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলেও কোনো গোল হজম করেনি তারা। সর্বশেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, আর একটি গোল করেন পেদ্রো পোরো।

স্পেনের রক্ষণভাগ নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে গোলশূন্য ম্যাচটিও হিসাব করলে, পর্তুগালের বিপক্ষেও যদি তারা ক্লিন শিট ধরে রাখতে পারে, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয়টি ম্যাচে গোল না খাওয়ার অনন্য কীর্তি গড়বে স্পেন।

রক্ষণে যেমন দৃঢ়, তেমনি ধারাবাহিকতাতেও দুর্দান্ত লা রোজা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তারা টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে। এই ম্যাচে হার এড়াতে পারলে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে গড়া নিজেদের ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করবে স্পেন। ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে ইতালি ছাড়া আর কেউ এর চেয়ে দীর্ঘ অপরাজিত থাকার নজির গড়তে পারেনি।

ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এটি স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের জন্য। তার অধীনে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে প্রথম ১১টি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে স্পেন। পর্তুগালকে হারাতে পারলে আইমে জাকে ও লুই ফন গালের পর তৃতীয় কোচ হিসেবে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রথম ১২ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়বেন তিনি।

পর্তুগালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে তার চারটি গোল রয়েছে, যা এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যেকোনো ফুটবলারের যৌথ সর্বোচ্চ। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে করা তার স্মরণীয় হ্যাটট্রিক এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে উজ্জ্বল। অন্যদিকে স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। এবারের বিশ্বকাপে চার গোল করে তিনি ২০১০ সালে ডেভিড ভিয়ার পাঁচ গোলের পর এক আসরে স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও জমিয়ে তুলেছে এই লড়াই। বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও পর্তুগাল। এর মধ্যে উভয় দল একটি করে ম্যাচ জিতেছে, আর তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ২০১৮ সালে তাদের লড়াই ৩-৩ গোলে ড্র হয়, যেখানে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনালদো। ইউরো ২০১২-এর সেমিফাইনালে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জয় পেয়ে ফাইনালে উঠেছিল স্পেন।

তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের সামগ্রিক রেকর্ড স্পেনের পক্ষেই কথা বলছে। শেষ ১২ প্রতিযোগিতামূলক দেখায় পর্তুগাল মাত্র একবার জিতেছে, সেটিও ২০০৪ সালের ইউরোতে। যদিও সর্বশেষ সাক্ষাতে, ২০২৫ সালের নেশনস লিগের ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। সেই জয় নিঃসন্দেহে রোনালদোদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এএন