মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে। এই জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত এক অর্জনে লিওনেল মেসিকে টপকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আবারও শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক।
ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮-এ, যা মেসির সমান। তবে গোল সংখ্যা সমান হলেও ৩টি অ্যাসিস্ট (মেসির ১টি) থাকায় গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এই মুহূর্তে এগিয়ে রয়েছেন এমবাপ্পে।
ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে। তাঁর নেওয়া দুর্বল শটটি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। এই সেভের মাধ্যমে বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৪টি পেনাল্টি ঠেকানোর রেকর্ড স্পর্শ করলেন বুনো। তবে পেনাল্টি মিস করলেও ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্টের অনন্য কীর্তি গড়েন এমবাপ্পে। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে একই ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট ও পেনাল্টি মিস করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারবার, যার মধ্যে শেষ তিন দিনে এই কীর্তি দেখালেন মেসি ও এমবাপ্পে।
এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করল ফ্রান্স। এর আগে কেবল জার্মানি ও ব্রাজিল টানা তিন বা তার বেশি আসরের শেষ চারে জায়গা পেয়েছিল। এটি ফ্রান্সের ইতিহাসে অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, যা ব্রাজিলের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১২টি সেমিফাইনাল খেলে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে জার্মানি।
ম্যাচে গোল করা উসমান দেম্বেলের বিশ্বকাপে এটি পঞ্চম গোল। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর আগের দুই আসরে (২০১৮ ও ২০২২) কোনো গোল না থাকলেও এই ৫টি গোলই এসেছে চলতি বিশ্বকাপে। এদিকে এমবাপ্পে (৮) ও দেম্বেলে (৫) মিলে ২০০২ সালের পর প্রথম সতীর্থ জুটি হিসেবে একই বিশ্বকাপে ৫ বা তার বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন।
ফরাসিদের আক্রমণভাগ চলতি আসরে কতটা বিধ্বংসী, তা প্রকাশ পায় পরিসংখ্যানে। এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে মিলে এখন পর্যন্ত ২৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা ২০০২ সালের বিশ্বজয়ী ব্রাজিলীয় ত্রয়ী রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর সম্মিলিত ২০ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলেন।
১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে অবদান রাখার নজিরও গড়লেন এমবাপ্পে। ২০২২ আসরে ১০টির পর এবার ইতিমধ্যে ১১টি গোলে (৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) অবদান রেখেছেন তিনি। এক আসরে এটি ১৯৭০ সালের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এমবাপ্পের মোট অবদান এখন ১৪টি, যা লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
এদিকে মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নেমে ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন। এই তালিকায় এখনও শীর্ষে আছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা এখন ২০, যা ইতিহাসেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাঁর সামনে ২১ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন কেবল লিওনেল মেসি। তবে ফ্রান্সের জার্সিতে ইতিমধ্যে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। জাতীয় দলের হয়ে ১০০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখা প্রথম ফরাসি ফুটবলার এখন তিনি (৬৪ গোল ও ৩৭ অ্যাসিস্ট)।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন