পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটতে না কাটতেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার জ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ়। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ স্পটকিক মিস করার পর তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি কলম্বিয়ার ফুটবল অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের পর ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এস্কোবার হত্যার দুঃসহ স্মৃতি আবারও সামনে চলে এসেছে।
বিশ্বকাপের আসর এবারও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৯৪ সালের সেই ট্র্যাজেডির সঙ্গে বর্তমান ঘটনার মিল থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের কারণে সমালোচনার মুখে পড়ার পর দেশে ফিরে গুলিতে নিহত হন আন্দ্রেস এস্কোবার। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় এবার ক্যাম্পাজ়ের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে টাইব্রেকারে ক্যাম্পাজ়ের নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত সেই মিসের পরই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি হত্যার হুমকিও আসতে শুরু করে। শুধু ক্যাম্পাজ় নন, তার পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ক্যাম্পাজ় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দেন। তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছে হুমকি পৌঁছাতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি দলের সঙ্গে কলম্বিয়ায় ফেরেননি। জানা গেছে, আপাতত তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন।
এ ঘটনার পর কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্যাম্পাজ় এবং তার পরিবারের অবস্থান ও চলাচল সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা কোনো ফুটবলার বা তার পরিবারের সদস্যকে হুমকির মুখে পড়তে হওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। ফুটবল ঐক্য, শ্রদ্ধা ও আশার প্রতীক হওয়া উচিত, ঘৃণা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার নয়। এ ধরনের প্রাণনাশের হুমকাকে তারা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নিজের পেনাল্টি মিসের দায়ও স্বীকার করেছেন ক্যাম্পাজ়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চান। মুখ ঢেকে দেওয়া সেই ভিডিওতে তিনি বলেন, ফুটবল কখনও আনন্দ, আবার কখনও কঠিন সময়ও নিয়ে আসে। মতপার্থক্য থাকতে পারে, সবাই হতাশ ও কষ্ট পেয়েছে, কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা বা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করার কারণ হতে পারে না।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করার পর আন্দ্রেস এস্কোবারকে দেশে ফিরে হত্যা করা হয়েছিল, যা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। ক্যাম্পাজ়কে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি সেই পুরোনো ক্ষতের কথাই আবার মনে করিয়ে দিয়েছে। তাই এবার কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না কলম্বিয়ার ফুটবল কর্তৃপক্ষ। তাদের লক্ষ্য, দেশের আর কোনো ফুটবলার যেন অতীতের সেই করুণ পরিণতির মুখোমুখি না হন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন