বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির একটি কথিত কৌশলগত নথি। জার্মান সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট বিল্ডের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ব্রাজিল দলের ড্রেসিংরুমে ওই নথিটি ফেলে যাওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) কিংবা আনচেলত্তির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নথিটিতে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য বিস্তারিত কৌশলগত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। শুধু নির্ধারিত ৯০ মিনিট নয়, ম্যাচ যদি টাইব্রেকারে গড়ায়, সেই পরিস্থিতিতেও কীভাবে দল প্রস্তুতি নেবে, সে বিষয়েও আলাদা নির্দেশনা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কথিত ওই নথিতে নরওয়ের সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের অভ্যাস, তারা কোন পায়ে শট নেন এবং গোলপোস্টের কোন দিক লক্ষ্য করে বেশি শট নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে নরওয়ের গোলরক্ষক আরিয়ান নেলান্দের পেনাল্টি প্রতিহত করার ধরন নিয়েও ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রক্ষণভাগের পরিকল্পনাও ছিল বেশ বিস্তারিত। কর্নার কিকের সময় কোন খেলোয়াড় কী দায়িত্ব পালন করবেন, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকে ম্যান-মার্ক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তরুণ ফুটবলার রায়ানকে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রথমার্ধে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারায়েস। তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আরিয়ান নেলান্দ। পাশাপাশি কর্নার প্রতিহত করা এবং আক্রমণ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্রাজিলের কৌশল কার্যকর হয়নি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত পরিকল্পনা যতই নিখুঁত হোক না কেন, ম্যাচের চাপের মধ্যে সেটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের ধারণা, ব্রাজিলের ক্ষেত্রে সেই বাস্তবায়নেই ঘাটতি ছিল।
তবে আলোচিত ওই নথির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হলেও ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন ও কোচ কার্লো আনচেলত্তির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকরা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন