বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলবন্যার রোমাঞ্চ উপহার দিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই দল মিলে করে ১০ গোল। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে জিতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংলিশরা। রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথমার্ধেই চারবার ফ্রান্সের জালে বল পাঠায় তারা। প্রথম গোলটি আসে ডেকলান রাইসের পা থেকে। এরপর ব্যবধান বাড়ান এজরি কনসা। বিরতির আগে বুকায়ো সাকা জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা স্কোরলাইন ৪-২ করেন। ৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আবারও দলকে ম্যাচে ফেরানোর আশা জাগান এমবাপ্পে।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেন এমবাপ্পে। এতে তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যান। একই সঙ্গে চলতি আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে আসেন তিনি।
তবে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি ইংল্যান্ড। সাকা নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং যোগ করা সময়ে বদলি নেমে জুড বেলিংহাম দলের ষষ্ঠ গোল করেন। শেষদিকে উসমান দেম্বেলে একটি গোল শোধ করলেও পরাজয় এড়াতে পারেনি ফরাসিরা।
ম্যাচটি ছিল দুই কোচের পরীক্ষামূলক একাদশের লড়াই। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল মূল একাদশে আটটি পরিবর্তন আনেন, আর ফ্রান্সের বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশম করেন সাতটি পরিবর্তন। রক্ষণে দুর্বলতার সুযোগে ম্যাচটি পরিণত হয় গোল উৎসবে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্যের একটি অর্জন করল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, দেশমের কোচিং ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় হলো বড় ব্যবধানে গোল হজমের হতাশা নিয়েই।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন