বর্তমান সরকারের উন্নয়ন জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে

আ.লীগের শান্তি সমাবেশ কাল

মো. সোহাগ বিশ্বাস প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৩, ১২:৩৬ এএম
আ.লীগের শান্তি সমাবেশ কাল
  • বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য জাতির সামনে তুলে ধরা হবে
  • স্থান পরিবর্তন করে আগারগাঁওয়ে সমাবেশের ঘোষণা

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে আন্দোলনের মাত্রাও ততই ঘনীভূত হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বিএনপির ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে সমানতালে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। রাজধানীতে আগামীকাল সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগের তিনটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন। আওয়ামী যুবলীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। 

আজ বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। সে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠে সমাবেশের অনুরোধ জানায় ডিএমপি কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাণিজ্য মেলার মাঠে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীনরা। সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য রাখবেন। অন্যদিকে বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তারা রাজধানীর মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে সভা-সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। বিএনপি আন্দোলনের নামে সহিংসতায় জড়ালে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তুলে দেবে। আর বিএনপি নেতারা হামলা করতে আসলে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। 

জানা গেছে, বিএনপি ও সমমনা দলগুলো গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে লাগাতার আন্দোলনে আছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগও শান্তি সমাবেশের নাম দিয়ে পাল্টা সমাবেশ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুই দলকে মুখোমুখি হয়ে বড় কোনো সংঘাতে জড়াতে দেখা যায়নি। বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, তারা দাবি বাস্তবায়ন না করে আন্দোলন থেকে ফিরবে না। এর বিপরীতে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, যতদিন, যখন, যেখানে কর্মসূচি দেয়া হবে, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নাম দিয়ে রাজপথে থাকবে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য আমার সংবাদকে বলেন, ‘নানাবিধ কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে সাহস দেখানোর চেষ্টা করবে। রাজধানীর বাইরে থেকেও আসার চেষ্টা করবে। ফলে এদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাকে আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছে। আশা করি এই চ্যালেঞ্জে অতীতের মতোই আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘বিএনপির দাবিটি যেহেতু সংবিধান পরিপন্থি সে ক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ে নীতিগত পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কথা বলার সুযোগ বেশি।’ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, শুক্রবার যে শান্তি সমাবেশ হবে সেই সমাবেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে তেমন নির্দেশনাই দেয়া হয়েছে। এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা শেখ হাসিনা সরকারের আমলের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরব। তাছাড়া দেশে বিএনপি-জামায়াত সারা দেশে যে নৈরাজ্য করছে তা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। বর্তমান সরকারের আমলে নানা ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সামনে এনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হবে এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে। তাছাড়া বিএনপি সমাবেশের নামে কোনো নৈরাজ্য করছে কিনা তাও নজর রাখা হবে। দলের পক্ষ থেকে ২৮ জুলাই শান্তিপূর্ণভাবে একটা শান্তি সমাবেশ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া আছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন ছাত্রনেতা  বলেন, বিএনপি পদযাত্রার সময় বাঙলা কলেজে সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। শুক্রবার বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি কোনো নৈরাজ্য করতে চাইলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। 

ছাত্রলীগের এই নেতারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরতেই এই সমাবেশ। এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দেয়ার শপথ নেয়া হবে। সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে আমার সংবাদকে আওয়ামী যুবলীগের মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি   ইঞ্জি. জাহান এম এ রহমান বলেন, শান্তি সমাবেশকে ঘিরে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সভা করছি।  আশা করি এই শান্তি সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হবে। 

তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অব্যাহতভাবে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আমরা এই শান্তি সমাবেশ করছি। যতদিন বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে ততদিন আমরা যুবলীগও মাঠে থাকব। যে কোনো অপশক্তি মোকাবিলা করতে আমরা আছি।  আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপির সমাবেশ যদি শান্তিপূর্ণ হয় তাহলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন কর্মসূচির অনুমতি পেতে পারে। কিন্তু সমাবেশের নামে যদি অরাজকতা করে তাহলে আর কোনো কর্মসূচির অনুমতি নাও পেতে পারে। 

এর আগে ১৯ জুলাই যুবলীগের এক কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আওয়ামী যুবলীগ।  সমাবেশে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হলে ভালো কথা কিন্তু সমাবেশের নামে অশান্তি করলে কপালে খারাবি আছে। আওয়ামী লীগের প্রধান তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের এই শান্তি সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যুবলীগের একাধিক নেতা আমার সংবাদকে জানিয়েছেন, শান্তি সমাবেশ সফল করতে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অবস্থান নেবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা কোথাও কোনো সহিংসতার পরিকল্পনা করলে তাদের প্রতিহত করা হবে। এদিকে দুই দলের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। দুই দলের এই কর্মসূচি নিয়ে অস্বস্তিতে আছে নগরবাসীও।