দেনার দায়ে নবজাতককে বিক্রি করলেন মা, ক্লিনিক মালিকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৫, ০৮:১১ পিএম

দেনার টাকা পরিশোধ করতে সিজারের মাধ্যমে সদ্যপ্রসূত সন্তানকে (ছেলে) দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছেন মা সুমাইয়া খাতুন। বিনিময়ে মিলেছে হাসপাতালের বিল পরিশোধ ও কিছু নগদ (৬৫ হাজার) টাকা। এ ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন ক্লিনিকের আয়া ইসমোতারা।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপার মোড়ের পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে। সুমাইয়া খাতুন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আনছার মোড়ের সাত্তার আলীর ছেলে মৃত আলামিনের স্ত্রী।

বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার বিকালে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএসও হেলেনা আক্তার নিপার নেতৃত্বে গঠিত ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালানো হয়। 

অভিযানে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালের কাগজপত্রে ত্রুটি ও হাসপাতালের পরিবেশ ভালো না থাকায় মালিক সেলিম রেজা বাবুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং শিশু সন্তানের বিক্রির সহযোগিতাকারী আয়া ইসমোতারা পুলিশ আটক করা হয়।

সুমাইয়া খাতুনের পরিবারের সদস্যরা জানান, চার মাসের গর্ভবতী অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুমাইয়া খাতুনের স্বামী আলামিন মারা যান। এরপর থেকে সুমাইয়ার জীবন চরম সংকটে পড়েছিল। স্বামীর বাড়ি বা পিতার বাড়ি কোনো জায়গায় স্থায়ীভাবে থাকেননি। অবশেষে বৃদ্ধা নানীর বাড়িতে আশ্রয় পান। গর্ভবস্থায় দিন যাপন করতে মানুষ থেকে ধার নিয়ে চলতেন। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রসব ব্যথা শুরু হলে এক প্রতিবেশির মাধ্যমে স্থানীয় ক্লিনিকে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অভাবের তাড়নায় সদ্যপ্রসূত সন্তানকে দত্তক দিতে বাধ্য হন। বিনিময়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ ও নগদ ৬৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

নবজাতকের মা সুমাইয়া খাতুন বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর পর গর্ভবস্থায় কোনো স্থায়ী আশ্রয় পাইনি। নানীর বাড়িতে থেকে সন্তানকে বড় করেছি। ক্লিনিকের খরচ স্বয়ং আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাই নবজাতককে দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছি। যারা দত্তক নিয়েছে তাদের চিনি না, শুধু শুনেছি তারা কুমিল্লায় থাকে।”

পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক সেলিম রেজা বাবু জানান, “সিজারের পর রোগীর দেখাশোনা ছাড়া আমার কোনো দায় নেই। রোগী যদি কারও সাথে আপস করে সন্তান দেয়, তার জন্য আমি দায়ী নই।”

মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএসও হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছি। অভিযানে ক্লিনিক মালিকের জেলাদেশ দেয়া হয়েছে এবং শিশু বিক্রির সহযোগিতাকারী নার্সের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।”

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, “ক্লিনিকের কাগজপত্রে ত্রুটি ও হাসপাতালের পরিবেশ ভালো না থাকায় পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক সেলিম রেজা বাবুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। শিশু বিক্রির সহযোগিতাকারী নার্সকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”

ইএইচ