রাজশাহীতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, তালাক এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।
শনিবার দুপুরে নগরীর সপুরা বিসিক এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মোসা. রিমা (২৫)।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার বাড়ি রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার চন্ডিপুর গ্রামে। ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল তার বিয়ে হয় মোহাম্মদ বেলাল হোসেন (২৮) এর সঙ্গে, যিনি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেতু এনজিওতে চাকরিরত।
বিবাহের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে দুই লক্ষ টাকা ব্যাবসার জন্য এবং এক লক্ষ টাকা সংসারের বিভিন্ন জিনিসপত্র বাবদ স্বামীকে প্রদান করা হয়। তবে বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ রাবেয়া খাতুন রিমার কাছে পুনরায় যৌতুক দাবি করতে থাকেন।
যৌতুক না দেওয়ায় তাকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন রিমা। স্বামীর বোন রাবেয়া খাতুন, যিনি হাজী জমির উদ্দিন শাফিনা উইমেন্স ডিগ্রি কলেজে ল্যাব এসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত, একাধিকবার মারধর করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রিমা বলেন, “আমি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত ৪ অক্টোবর তালাক দিয়ে দেয়। এটি আমার জন্য অমানবিক ও অন্যায়।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি গত ৮ অক্টোবর রাজশাহীর বিজ্ঞ আদালতে একটি যৌতুক নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছেন। মামলা করার পর থেকে তার স্বামীর পরিবার মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রিমা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বেল্লাল ও রাবেয়া খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি।
জেএইচআর