ভেড়ামারায় পদ্মায় তীব্র ভাঙন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

হেলাল মজুমদার, ভেড়ামারা প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৭:৩৯ পিএম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীতে পানি কমতে শুরু করায় ফের দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এতে নদী তীরবর্তী চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ফসলি জমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৮ থেকে ১০ দিন ধরে বাহিরচর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া, ১২ মাইল, টিকটিকিপাড়া ও মসলেমপুর এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে একরের পর একর কৃষিজমি। পানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

পদ্মার ভাঙন রোধ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মসলেমপুর পদ্মার পাড়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম।

তিনি বলেন, “পদ্মার পানি কমার কারণে কয়েক দিন ধরে ব্যাপকহারে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ১২ মাইল, মসলেমপুর, মুন্সিপাড়া ও টিকটিকিপাড়ার শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন পদ্মার পাড়ের মানুষ। আমরা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

মসলেমপুর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, “বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন থেকে পদ্মার প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধের দূরত্ব এখন মাত্র ৪০ মিটার। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। এলাকাবাসী ইতোমধ্যে নদীর পাড়ে মানববন্ধন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।”

বাহিরচর ইউনিয়নের টিকটিকিপাড়া এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, “পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। প্রতিদিন নদীর পাড়ের মানুষ আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে।”

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আলামিন জানান, “ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভাঙনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি, দুই-এক দিনের মধ্যেই ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা যাবে।”

ইএইচ