বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন বহাল, জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০২৫, ১০:০৪ পিএম

বাগেরহাট জেলার সংসদীয় আসন চারটি বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। 

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফ এই রায় দেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট বিপ্লব কুমার পোদ্দার, অ্যাডভোকেট ফয়সাল মোস্তফা, অ্যাডভোকেট রাজিয়া সুলতানা, ব্যারিস্টার কাজী সামান্তা এনাম, অ্যাডভোকেট আমিনুজ্জামান সোহাগ, অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইকরামুল কবির।

আসন ফিরে পাওয়ায় বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ উদযাপন করে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় বাগেরহাট প্রেসক্লাব থেকে একটি মিছিল বের হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে মিলিত হয় মিছিলটি। এছাড়া নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

মাগরিবের নামাজের পর বাগেরহাট পুরাতন কোর্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিএনপি ও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম উপস্থিত ছিলেন।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এটি বাগেরহাটের ১৮ লক্ষ মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়।”

বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের চারটি আসন ছিল। হঠাৎ একটি আসন কমিয়ে দেওয়ায় আমরা বিক্ষোভ করেছি, হরতাল করেছি এবং আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আজ উচ্চ আদালত আমাদের আসন ফিরিয়ে দিয়েছে। পুরো বাগেরহাটবাসী খুশি। আল্লাহর রহমতে আর কোনো শক্তি আমাদের আসন ফিরিয়ে নিতে পারবে না।”

গেল ৩০ জুলাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয়। এরপর থেকে বাগেরহাটবাসী আন্দোলন শুরু করে। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশগ্রহণ করে নেতাকর্মীরা। ৪ সেপ্টেম্বর কমিশন কেবল সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসন জারি রেখে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে।

এরপর ৭ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে উচ্চ আদালতে দুটি রিট করা হয়। বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতি একটি রিট দায়ের করে। অপরটি করেন চিতলমারী উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবর রহমান শামীম। রিটে বাংলাদেশ সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পরে আদালত চারটি আসন বহাল রাখার রায় প্রদান করে।

আসন বহালের দাবিতে বাগেরহাটবাসী আগেও মিছিল, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান, সড়ক অবরোধ ও হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করেছে।

ইএইচ