কুড়িগ্রামে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৫ ডিগ্রিতে

সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে ঠান্ডায় জনজীবন ভোগান্তিতে পড়েছে। জেলায় ক্রমেই নামছে তাপমাত্রা। এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।

বুধবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সাথে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। কুড়িগ্রামে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে বলে জানিয়েছে রাজারহাট আবহাওয়া অফিস।

সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত জেলার মাঠ-ঘাট ও গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহরের রাস্তাঘাট ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকে। ফলে ভ্যানচালক ও রিকশাচালকসহ শ্রমজীবী মানুষ সকালে সময়মতো কাজে যেতে পারছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনগুলো রাস্তায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। গ্রামে অসহায় মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ভ্যানচালক জাকির হোসেন বলেন, “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। সকালবেলা ভ্যান নিয়ে বের হতে পারি না। তাছাড়া সকালে ভাড়াও পাওয়া যায় না। ঠান্ডার কারণে কামাই কমে গেছে।”

সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের মিজানুর রহমান বলেন, “আমি এবছর ১০ একর জমিতে আলু আবাদ করেছি। কিন্তু এবার যেভাবে হিম পড়ছে, তাতে আলু গাছের ক্ষতি নিয়ে চিন্তায় আছি।”

শীতের তীব্রতা বাড়ায় হাসপাতালে গত কয়েকদিন ধরে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, আমাশয় ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বর্তমানে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। এ মাসে আরও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে জানা যায়, শীতার্ত মানুষের জন্য ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া আরও ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এসেছে, যা উপজেলাগুলোতে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

ইএইচ