ভাঙ্গুড়ায় তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা ঝুঁকিতে

মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পৌষের শুরু থেকে সূর্যের আলো কম থাকা এবং কনকনে ঠান্ডায় চারার বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। শিকড় দুর্বল হয়ে গোড়ায় পচন ধরাসহ অনেক স্থানে চারা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, নিচু জমিতে তৈরি করা বীজতলাগুলো কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হচ্ছে। সাধারণত ১০-১২ দিনের মধ্যে চারা রোপণের কথা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক আ. ছালাম ও রায়পাড়া গ্রামের আ. হান্নান জানান, এক সপ্তাহ ধরে কুয়াশায় চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হচ্ছে। ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না, উল্টো উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

ক্ষতি এড়াতে কৃষকরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। সুলতানপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল জানান, তারা ভোরে লাঠি দিয়ে চারা থেকে শিশির ঝরিয়ে দিচ্ছেন। অনেক কৃষক রাতে বীজতলা পলিথিনে ঢেকে রাখছেন এবং জমিতে গরম পানি ছিটাচ্ছেন। তবুও ছোট ও মাঝারি কৃষকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ আবাদ নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান জানান, তীব্র শীতে বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি ও ছত্রাক আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পলিথিন ব্যবহার, সকালে পানি পরিবর্তন এবং জমে থাকা শিশির ঝরানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরও কয়েকদিন এমন কনকনে শীত ও কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। সময়মতো চারা রোপণ করতে না পারলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেএইচআর