মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা গ্রাম থেকে গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ঘুরে ভোটারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। উঠান বৈঠক, পথসভা ও ছোট সমাবেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদের সমর্থন চাইছেন তারা।
নির্বাচনী মাঠে এবার সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে নদীভাঙন। মানিকগঞ্জের বুক চিরে প্রবাহিত পদ্মা, যমুনা, কালীগঙ্গা, ইছামতী ও ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর ও ঘিওর উপজেলায় প্রতি বছর হাজারো মানুষ নিঃস্ব হচ্ছেন। বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে অনেক পরিবার বারবার স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে।
ভোটারদের অভিযোগ, বছরের পর বছর এ সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
এমন বাস্তবতায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে নদীভাঙন রোধ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনটি আসনের প্রার্থীরাই নদীভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিচ্ছেন। পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন তারা।
নদীভাঙনের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মাদক নির্মূলের দাবিও জোরালোভাবে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক এখনো কাঁচা ও ভাঙাচোরা হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রার্থীরা এসব সড়ক পাকাকরণ ও নতুন ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে মাদকের কারণে সামাজিক অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় ভোটাররা এবার মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ দেখতে চান।
ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবার কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড ও এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতাও বিবেচনায় নিচ্ছেন। কে বিপদে মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতে সংসদে এলাকার সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবেন, সেটাই হবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মূল মানদণ্ড।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ-১ আসনে ৬ জন, মানিকগঞ্জ-২ আসনে ৪ জন এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, জেলায় উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রার্থীরা যাতে আচরণবিধি মেনে চলেন, সেজন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মাঠে একাধিক পর্যবেক্ষক টিম কাজ করছে।
ইএইচ