পার্টনার-ডিএএম প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা  প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ৭৬০ কোটি টাকার পার্টনার-ডিএএম প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থ আদায় ও প্রশিক্ষণ নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ প্রকাশ ও মানববন্ধনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রিপ্রিনিউরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’। 

প্রকল্প নির্দেশিকা অনুযায়ী ১২ দিনব্যাপী ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা। খাবার, উপকরণ, ভাতা ও লজিস্টিক সহায়তা সরকারি বরাদ্দ থেকেই দেয়ার বিধান রয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের পর দুদকের একটি দল মাগুরা সদর এলাকায় অবস্থিত ‘ড্রিম মাশরুম ভ্যালি’ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে বিল-ভাউচার, প্রশিক্ষণ নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জানুয়ারিতেও একই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে সূত্র জানিয়েছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, সরকারি অর্থে পিকনিক আয়োজনের কথা থাকলেও জনপ্রতি ৩০০ টাকা আদায়ের হয়েছে। ২৫ জনের একটি ব্যাচ থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকা তুলে ঝিনাইদহের জোহান পর্যটনকেন্দ্রে নেয়া হয়। নীতিমালায় যেখানে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার সুযোগ নেই, সেখানে এ আদায়কে সরাসরি অনিয়ম বলছেন ভুক্তভোগীরা।

‘মাশরুম বাবুল’ নামে পরিচিত বাবুল আক্তার বলেন, ‘প্রতি প্রশিক্ষণে ২৫ জনের ব্যাচ করা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী উত্তোলন করেছি। তবে আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব বা সম্পদের বিবরণ দেখাতে পারেননি।

মাগুরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, গত ২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকল্পটিতে ১২ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে বারো হাজার টাকা অনারিয়াম দেয়া হয়েছে উদ্যোক্তাদের পরবর্তীতে এটাকে কমিয়ে ১১ দিনের প্রশিক্ষণের আওতায় ১১ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে তবে এর পূর্বে সাড়ে নয় হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে সেটা তাদের বিষয় আমিতো নতুন এসেছি জেলাতে। 

এই অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক মিরাজ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলার উদ্যোগ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. রফিকুল ইসলাম তদন্তে আসছেন, তিনি বলেন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এএন